বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

যাত্রাপালায় বোমাহামলা, আহত ১০

1449289676পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহাসিক কান্তজিউ রাস মেলায় যাত্রাপালা চলাকালে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তজিউ রাস মেলায়

শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে ভোলানাথ অপেরা নামে একটি যাত্রা প্যান্ডেলে এ বোমাহামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর মন্দির প্রাঙ্গণসহ পুরো মেলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সব আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়।

আহতদের মধ্যে ৬ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন- নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. মিন্টু (৩০), কাহারোল উপজেলার দশমাইল গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে মো. সাইদুর রহমান (২৫), একই এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আবদুল জব্বার (২৮), লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিরামপুর গ্রামের ননী গোপালের ছেলে স্বাধীন রায় (৩৫), রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামদারপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. মোছাদ্দেক হোসেন (২৩) ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মিহির দাশের ছেলে উমা কান্ত (২৫)।

কাহারোল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আহসান জানান, রাস মেলার উত্তর কোণে ভোলানাথ অপেরা যাত্রা প্যান্ডেলে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে একটি বিকট শব্দ হয়। এ সময় সেখান থেকে বিস্ফোরণে আহত ৯ জনকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ জানান, মেলার যাত্রা প্যান্ডেলে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হামলাকারীদের চিহিৃত এবং গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এগুলো ককটেল জাতীয় বোমা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আটক করতে রাত থেকেই পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে দিনাজপুর সদর ও কাহারোল পুলিশ একযোগে কাজ করছে।

মেলার ইজারাদার মো. হারেজ আলী শাহ জানান, এ মেলা দীর্ঘ কয়েকশ’ বছর ধরে চলে আসছে। এ মেলায় দেশ-বিদেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের আগমন ঘটে। এ মেলা অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি বড় উদাহরণ। কতিপয় দুস্কৃতকারী এ ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করার জন্য এ অপচেষ্টা চালিয়েছে। মেলার ইজারাকে কেন্দ্র করে এ হামলা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আহত উমা কান্ত দাশ বলেন, ‘মেলায় যাত্রাগান শুনতে ভোলানাথ অপেরায় প্রবেশ করি। যাত্রাপালা চলাকালে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ১টায় নৃত্য শুরু হওয়া মাত্রই আমার পাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর বিস্ফোরণে আমি আহত হয়ে পড়ে পড়ি। পরে মেলার লোক আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ জানান, আহতদের সবার পায়ের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টারের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত নয়।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শকন করেছেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। এ মুহূর্তে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক বিজিবি, র‌্যার, ডিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন