বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কাঁচাপাট রফতানি বন্ধে হতাশ ব্যবসায়ীরা

jute_danikdhakareport_35552কোন ধরণের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য কাঁচাপাট রফতানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার, এমন অভিযোগ পাট রফতানিকারকদের। এমনকি, প্রজ্ঞাপন জারির আগেই বন্দরে পৌঁছানো পাটের রফতানি ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় পাটের আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন রফতানিকারকরা। যদিও সরকার বলছে, ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পাটের যোগান নিশ্চিত হলেই তুলে নেয়া হবে নিষেধাজ্ঞা। সরকারি হিসেব মতে, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৭৮ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হচ্ছে, এর মধ্যে ১৭ লাখ বেল কাঁচা পাট রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

যদিও রফতানিকারকরা বলছেন, এ মৌসুমে উৎপাদিত হয়েছে ৬০ লাখ বেল পাট, এর সঙ্গে বিগত বছরের অতিরিক্ত ৫ লাখ বেল নিয়ে মোট পাটের মজুদ রয়েছে ৬৫ লাখ বেল। যা থেকে এর মধ্যেই চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রফতানি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বেল, আর দেশের পাটকলগুলোতে প্রয়োজন পড়বে ৫০ লাখ বেল পাটের। ফলে এ বছরও থেকে যাবে প্রায় ১০ লাখ বেল অতিরিক্ত কাঁচাপাট।

তা সত্ত্বেও কাঁচাপাট রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলছেন রফতানিকারকরা, অন্তত আলাপ আলোচনা না করেই এ ধরণের উদ্যোগ নেয়ায় তা পাটশিল্পের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করবে বলেও মনে করছেন তারা। এদিকে, সরকার বলছে, প্রতিষ্ঠানভেদে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সিদ্ধান্ত কিছুটা শিথিল করা হতে পারে, কিন্তু সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে পাটের মোড়ক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নকেই।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন,‘আমাদের পাটের ওপর নির্ভর করে বিদেশে যদি কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে থাকে, তাহলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিবেচনা করতেও পারি ’

যদিও, আইন বাস্তবায়নের প্রশ্নে দ্বিমত নেই রফতানিকারকদের। তবে, রফতানি বন্ধের ফলে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পারে উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতেও সরকারের প্রতি আহ্বান তাদের।

আরও পড়ুন