দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মন্ত্রিসভায় বলেছেন, বিমানবন্দরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটান।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার একটি সূত্র এ তথ্য জানায় ।
মন্ত্রিসভা আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ছাড় না দিতে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। প্রয়োজনে অবৈধ ভাবে প্রবেশকারীকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে।
তারা বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ অবৈধভাবে বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বা প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিমানবন্দরে নিরাপত্তার বিষয়টি বৈঠকে তোলে বলেন, অনেক সময় ভিআইপিদের আসা-যাওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক লোকজন বিমানবন্দরে প্রবেশ করে। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সমস্যা হয়। কোনো কোনো দেশ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ফ্লাইট বাতিলের কথা বলছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। অবৈধভাবে যারা প্রবেশ করবে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনে যা আছে তার বাইরে যেন কেউ জোর করে কিছু করতে না পারে। আইন যে ব্যবস্থা নিতে বলে সেই ব্যবস্থাই নেবেন। এখানে কোন রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয় চলবে না। কেউ পরিচয় দিতে চাইলে তাকে আটক করে জানিয়ে দিবেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র বলছে, বৈঠকে রাশেদ খান মেনন সুর্নিদিষ্ট করে যুবলীগ আর ছাত্রলীগের আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ কে দলীয় ভাবে সব সাংগাঠনিক স্তরে চিঠি দিয়ে সর্তক করতে বলেন। একই সঙ্গে ভিভিআইপিদের চিঠি দিয়ে যথাযথ আইন মানতে বেসামরিক বিমানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে বলেন।
বৈঠকে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজের অগ্রগতি ও সেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।


