পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার বার্তা দিতেই ইসলামাবাদে পৌঁছলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে। নয়াদিল্লিতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক বাতিল হওয়ার পরে ভারত-পাক সম্পর্কে যে শীতলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরে সুষমার ইসলামাবাদ সফর নতুন করে বিভিন্ন বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খুলে দিচ্ছে। আজ সরতাজ আজিজের সঙ্গেও সুষমার কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়েছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরের মূল কারণ যদিও আফগানিস্তানের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলন। তবে ইসলামাবাদে সুষমা জানিয়েছেন, ‘‘দু’দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে যাতে এগোনো সম্ভব হয়, সেই বার্তা দিতেই এসেছি।’’ সুষমার ব্যাখ্যা, আফগানিস্তানের উন্নয়ন ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জন্য বৈঠকে যোগ দিতে তিনি পাকিস্তানে এসেছেন। আর ইসলামাবাদে এলেন যখন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই নওয়াজ শরিফ ও সরতাজ আজিজের সঙ্গে দেখা করবেনই।
তবে নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রের ব্যাখ্যা., ২০১২ সালে মনমোহন সিংহ সরকারের বিদেশমন্ত্রী হিসেবে এস এম কৃষ্ণের পাক সফরের পরে পাকিস্তানে পৌঁছলেন মোদী সরকারের বিদেশমন্ত্রী সুষমা। আর তিনিই এনডিএ সরকারের প্রথম মন্ত্রী, যিনি ইসলামাবাদে এলেন। ফলে বিদেশমন্ত্রীকে ইসলামাবাদে পাঠিয়েই মোদী তাঁর পাকিস্তান-কূটনীতিকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলেই অনেকেই মনে করছেন।
কেননা, মোদী সরকার প্রতিটি বিষয়েই পাকিস্তানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার পথ থেকে এখন সরে আসছে। সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অশান্তি থাকলেও বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিষয়গুলিতে কোনও জটিলতা চাইছে না মোদী সরকার। সুষমা এই বিষয়ে শরিফের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সুষমার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে নওয়াজ শরিফও আজ বিদেশ মন্ত্রক, সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার উফায় নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফের বৈঠকের পরে হুরিয়ত নেতাদের দিল্লির পাক হাইকমিশনে ডেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। তখন ভেস্তে গিয়েছিল দু’দেশের এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক। কিন্তু প্যারিসে মোদী ও শরিফের কয়েক মিনিটের একান্ত আলোচনা পরিস্থিতিকে অনেকটাই স্বাভাবিক করেছে। যার জেরে ব্যাঙ্ককে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা।
এই প্রেক্ষাপটে সুষমার ইসলামাবাদ পৌঁছনোই মোদী সরকারের কূটনীতির একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকেরা। ভারতে জঙ্গি কাজকর্মে পাক গুপ্তচর সংস্থা আই এস আইয়ের জাল ছিড়ে ফেলার তৎপরতা দেখাতে চাইছে মোদী সরকার। পাশাপাশি আলোচনার দরজা খোলার প্রশ্নেও আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন মোদী। প্যারিসে তিনিই এগিয়ে গিয়ে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে কথা বলেন। যার পরে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়।
দু’দিনের সফরে সুষমার সঙ্গে পাকিস্তান পৌঁছেছেন বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর। কয়েকদিন আগে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও নাসির জানজুয়ার বৈঠকের সময়ে ব্যাঙ্ককে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।-আনন্দবাজার।


