বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আসামীকে কোর্টে তোলার আগে মিডিয়ার সামনে না: হাইকোর্ট

JMB-1কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির না করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবির) ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক সদস্যের রায় দেওয়ার সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি  আমির হোসেনের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

রায়ে ২০০৯ সালে গাজীপুরে বোমাসহ আটক মামুন ওরফে জাহিদকে বিচারিক আদালতের  দেওয়া প্রাণদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবীর। আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন শেখ মনিরুজ্জামান।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান।

এ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত  বলেন, ‘কোনো আসামিকে প্রচার বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আদালতে হাজির করার আগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে উপস্থিত করা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন বিরত থাকে— এ জন্য আইজিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। একইসঙ্গে  যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জঙ্গি মামুনের মামলার তদন্তে উদাসীনতার কারণে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া এ ঘটনায় তখনকার গাজীপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বোমা বা গ্রেনেডসহ জাহিদকে হাজির করে সংবাদ সম্মেলন করা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ ছিল বলে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে জাহিদকে টঙ্গীর হরতইল গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁটি হ্যান্ড-গ্রেনেড, ডেটোনেটর ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক করে পুলিশ।

পরে  গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেনের কার্যালয়ে গ্রেনেডসহ মামুনকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে টেবিলে থাকা গ্রেনেড মামুন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এ সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণে সাংবাদিক, পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৩ সালে ১৩ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামুনকে প্রাণদণ্ডাদেশ দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামুনের প্রাণদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন  সাজা দেন।

আরও পড়ুন