বর্তমান সরকারের প্রথম পাঁচ বছর ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে পাচার হয়েছে তিন হাজার ৪৩৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। টাকায় রূপান্তর করলে তা দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৩ সালেই পাচার হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৭৭ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা, ১০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) ২০১৫ সালের বৈশ্বিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অর্থ পাচারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান হয়েছে ২৬তম।
বুধবার ‘উন্নয়নশীল দেশ থেকে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ : ২০০৪-২০১৩’ শিরোনামে জিএফআই ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ বার্ষিক প্রতিবেদন। ২০০৮ সাল থেকে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে জিএফআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৭৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। প্রতিবছর গড়ে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৪৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালেই পাচার হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৭৭ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ২০০৪ সালে ৩৩৪ কোটি ৭০ লাখ, ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ২০ লাখ, ২০০৬ সালে ৩৩৭ কোটি ৮০ লাখ, ২০০৭ সালে ৪০৯ কোটি ৮০ লাখ, ২০০৮ সালে ৬৪৪ কোটি ৩০ লাখ, ২০০৯ সালে ৬১২ কোটি ৭০ লাখ, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ, ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ও ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল ১৮৯টি দেশের তালিকা করা হয়েছে, যেখানে অর্থ পাচারে শীর্ষে রয়েছে চীন। ২০০৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশটি থেকে ১ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। এর পর রয়েছে রাশিয়া, মেক্সিকো, ভারত ও মালয়েশিয়া।
জিএফআইর তালিকায় নেপাল ৮৬তম, ১০৯তম পাকিস্তান, মালদ্বীপ ১২০তম ও ভুটান ১৩২তম অবস্থানে রয়েছে। আর তালিকায় ১৪৯তম দেশ উজবেকিস্তান।
জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ অর্থপ্রবাহের কারণে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলো ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হারিয়েছে। এই ১০ বছরে প্রতিবছর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অবৈধ অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। এটি বৈশ্বিক জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় দ্বিগুণ।


