বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে ইতিহাসে প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন নারীরা

saudi-women2সৌদি আরবের ইতিহাসে আজ শনিবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন নারীরা। দেশজুড়ে চলমান পৌর নির্বাচনে পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নারীরা। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, নির্বাচনে ৯৭৮ জন নিবন্ধিত নারী প্রার্থী লড়ছেন। পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৩৮ জন। নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের প্রচার চালাতে হয়েছে পর্দার আড়াল থেকে বা পুরুষ প্রতিনিধির মাধ্যমে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোটার হিসেবে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার নারী নিবন্ধিত হয়েছেন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যার তুলনায় তা খুব কম। পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৫০ হাজার।

সৌদি আরবে নির্বাচন খুব বিরল ঘটনা। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ৪০ বছর দেশটিতে কোনো নির্বাচন হয়নি। সৌদি ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন হচ্ছে।

দেশটিতে প্রথম নিবন্ধিত নারী ভোটার সালমা আল-রাশেদ। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যাপার। নির্বাচন হলো সেই পন্থা, যার মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।’

প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ তাঁর নেওয়া সংস্কার উদ্যোগে বলেছিলেন, সৌদি আরবের নারীদের সঠিক মতামত ও উপদেশ দেওয়ার মতো যে যোগ্যতা আছে, তা তাঁরা দেখিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি এই বাদশাহ মারা যাওয়ার আগে দেশটির সর্বোচ্চ উপদেষ্টা পর্ষদ শুরা কাউন্সিলে ৩০ জন নারীকে নিয়োগ দিয়ে যান।

আজ ২১০০ কাউন্সিল আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর বাইরে এক হাজার ৫০ আসন পূরণ করা হবে বাদশাহর মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে। এই নির্বাচনের ফল শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

সৌদি আরবে নারীদের যা করতে মানা
সৌদি আজ শনিবার পৌরসভা নির্বাচনের অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নারীরা এই প্রথম প্রার্থী ও ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি নারীরা বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছেন। দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর এক খবরে তা তুলে ধরা হয়েছে।

নারী ভোটাররা পিছিয়ে
১৮ বছরে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা সাপেক্ষে এই প্রথম মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি নারী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৩ লাখ ৫০ হাজার। এএফপির তথ্যমতে, সৌদি আরবের জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেও পুরুষদের মতো নারীরা সরাসরি উপস্থিত থেকে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারেননি। পর্দার আড়ালে থেকে বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুরুষদের কাছে তাঁদের প্রচার চালাতে হয়েছে। এমনকি নিজের ছবিযুক্ত কোনো পোস্টারও লাগাতে পারেননি কোনো নারী প্রার্থী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও এর তাৎপর্য নিয়ে সচেতনতার অভাবে অনেক নারী ভোটার হননি।

পর্দা ছাড়া বাইরে পা দেওয়া বারণ
সৌদি নারীকে কঠোর পর্দার মধ্যে চলতে হয়। কেবল চোখ ও হাত ছাড়া আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হয়। ধর্মীয় পুলিশ তা বিষয়টি নজরদারি করে। চোখ ও হাত ছাড়া নারীর অন্য কোনো অংশ দেখা গেলে ওই পুলিশ তাদের শাস্তি দেয়।

ভিন পুরুষের সঙ্গে দেখা নয়
পরিবারের বাইরে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নেই সৌদি নারীদের। অবশ্যই পরিবারের কোনো পুরুষ অভিভাবকের সঙ্গে বের হতে হয়। সৌদি আরবের বেশির ভাগ বাড়িতেই নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশ পথ। শুধু বাড়িতেই নয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কর্মস্থলেও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।

গাড়ি চালাবে না নারী
সৌদি আরবের নারীদের এখনো গাড়ি চালানোর অনুমতি মেলেনি। নারীর গাড়ি চালানোকে সে দেশে ‘হারাম’ বা ‘নিষিদ্ধ’ বলে মনে করা হয়। নারীদের পর্দা প্রথা রক্ষা করার জন্য এটি করা হয়। নারীরা গাড়ি চালালে তাঁরা বাইরের পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে যাবেন। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকারের দাবিতে একটি সংগঠন সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই আইনের বিরোধিতা করে অনেক নারী অধিকার কর্মী বিক্ষোভ করেঝেন। তবে কাজ হয়নি।

ব্যাংক হিসাব খুলতে অনুমতি
পরিবারের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নারীরা বাইরে যেতে পারেন না, ব্যবসা করতে পারেন না, এমনকি চিকিৎসাও করাতে পারেন না। যদি চাকরি বা ব্যবসার অনুমতি মিলেও যায় সেখানে তাঁদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। ব্যাংক হিসাব খুলতেও লাগে পুরুষ অভিভাবকের সহায়তা।

আরও পড়ুন