পৌর নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কারের তালিকা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ রবিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করবেন তাদের বহিস্কারের জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে দলীয় প্রতীকে আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২৩৬ জনের মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন একাধিক। ফলে মুখে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও নির্বাচনী খেলায় হার-জিতের আতঙ্কে রয়েছে দলটি।
এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভেতরে-বাইরে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে একাধিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও নীতি নির্ধারনী নেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ এক সংবাদ সম্মেলনে অস্বীকার করা হয়েছে।
রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এবং দলীয় ইমেজ ব্যবহার করে জয় নিশ্চিত করার প্রয়াসে এই আইন করেছে সরকার-এমনটিই ধারণা বিশ্লেষকরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আসন্ন এ নির্বাচনে যারা নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের স্ত্রী, ভাই, জামাতা, আত্মীয়-স্বজন। এছাড়াও রয়েছে নব্য আওয়ামী লীগরা। যদিও প্রার্থী বাছাইয়ের প্রথম বৈঠকে এই অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ নির্বাচন কমিশনের কাছে ২৩৬ পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর তালিকা জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে অবশ্য রাজশাহীতে মদ্যপানে এক প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে।


