ঢাকার সাংবাদিকদের প্রিয় মুখ আবদুল্লাহ আল ফারুকের ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ এক বিবৃতিতে ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা প্রয়াত সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
রোববার সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুকের (৫৩) মৃত্যু হয়। শনিবার মধ্যরাতে কাকরাইল মোড়ের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
রমনা থানার উপ-পরিদর্শক সামসুদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকটির সন্ধান তারা গতরাত পর্যন্ত পাননি।
আজ দুপুরে তার মোহাম্মাদপুরের বাসা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রথম জানাজা এবং সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ফারুকের মরদেহ আনা হলে সরকার পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ফারুকের জানাজা অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার, আবেদ খান, আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আলতাফ মাহমুদ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ওমর ফারুক, কুদ্দুস আফ্রাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রেস ক্লাব থেকে তার কফিন নেওয়া হয় সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কার্যালয়ে। সেখানে বিকাল ৩টায় তার দ্বিতীয় জানাজায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টাররা অংশ নেন। জানাজা শেষে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাক চালককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করেন সাংবাদিকরা। মিছিলটি ডিআরইউ থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। একই দাবিতে আগামী মঙ্গলবার মানববন্ধন করবেন সাংবাদিকরা। সন্ধ্যায় আবদুল্লাহ আল ফারুকের মরদেহ আজিজপুর কবরাস্থানে দাফন করা হয়।
পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার সন্তান আবদুল্লাহ আল ফারুক ২০০৯ সালে কালের কণ্ঠে যোগ দেওয়ার আগে সমকালের প্রধান প্রতিবেদক এবং যুগান্তর ও সংবাদ, ভোরের ডাক পত্রিকায় রাজনীতি ও সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। আগামী ১ জানুয়ারি ‘খোলা কাগজ’ নামে নতুন একটি পত্রিকায় তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী আলাদা শোক বার্তায় ফারুকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। আবদুল্লাহ আল ফারুক স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।


