বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৮

sirajganj-accident-photoসিরাজগঞ্জে ভটভটিতে চড়ে খৎনার দাওয়াতে যাওয়ার পথে তেলের লরির সঙ্গে সংঘর্ষে লাশ হলেন আটজন, যারা পরস্পরের আত্মীয়। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে শাহাজাদপুর উপজেলার গাড়দাহ এলাকার বকুলতলায় এ দুর্ঘটনায় আরও দশজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহাজাদপুর থানার ওসি মুনির হোসন জানান।

নিহতদের প্রায় সবাই শাহাজাদপুরের বড়মহারাজপুর গ্রামের হাসেন আলীর পরিবারের সদস্য বা তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

এরা হলেন- হাসেন আলীর তিন ছেলে-মেয়ে জালাল উদ্দিন (৪০), মোকবেল হোসেন (৩৮) ও আঞ্জুলা খাতুন (২৫); ওই পরিবারের সদস্য সোরমান আলীর স্ত্রী ওজুবা বেগম (৬০), রজব আলীর মেয়ে বন্যা খাতুন (১০), তারা মিয়ার মেয়ে রেনু খাতুন (২৮), রেজাউল ইসলামের মেয়ে ফিরোজা খাতুন এবং ভটভটি চালক গফুরের ছেলে আব্দুস সোবহান (৩৫)।

ঘটনাস্থলে থাকা শাহজাদপুর থানার এসআই আব্দুল জলিল জানান, হাসেন আলীর আরেক ছেলে হেলাল ঢাকায় থাকেন। হেলালের ছেলের খৎনার দাওয়াতে যোগ দিতে ওই পরিবারের ১৭ জন ঢাকার ট্রেন ধরতে ভটভটিতে করে উল্লাপাড়া স্টেশনে যাচ্ছিলেন।

“তাদের ভটভটি বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে গাড়দহ বকুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা তেলের লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভটভটি উল্টে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ”

স্থানীয়রা চালকসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেনু, ফিরোজা ও সোবহান মারা যান বলে জানান এসআই জলিল।
আহত আরও ১০ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ দুর্ঘটনার কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শাহজাদপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাহন দুটি সরিয়ে নিলে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ তেলের লরিটি জব্দ করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন বলে ওসি মুনির জানান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন এবং সিভিল সার্জন দেবপদ রায় ঘটনাস্থলে যান।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ট্যাংকলরি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

আরও পড়ুন