রাজধানীর ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা পর সংঘর্ষ থেমে যায়। বর্তমানে হকার্স মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। এদের মধ্যে দুজন শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে পপুলার মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাতের জন্য শিক্ষার্থী এবং ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীরা পরস্পরকে দায়ী করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজের বিপরীত পাশে ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পাশের অন্য বিপণি বিতানের কিছু কর্মীও ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয়।
উভয় পক্ষ পরস্পরের দিকে ইট ছুড়তে থাকে। গাড়িও ভাংচুর হয়। এসময় এক সাংবাদিকের মোটর সাইকেলসহ চারটি মোটর সাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
মিঠুন নামের ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, সংঘর্ষে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শাড়ি মেলা নামের হকার্স মার্কেটের একটি দোকানের এক বিক্রেতা জানান, বিকেলে ঢাকা কলেজের তিন-চারজন শিক্ষার্থী তাঁদের দোকান থেকে শাড়ি কিনতে যান। তাঁরা ১০ হাজার টাকা মূল্যের চারটি শাড়ি কেনেন। কিন্তু কেনার পর দোকানদারকে কোনো টাকা না দিয়ে শাড়িগুলো নিয়ে চলে যেতে চান। কিন্তু বিক্রেতা শাড়ি দিতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চটে যান। পরে তাঁরা হলে গিয়ে আরো শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে হকার্স মার্কেটে হামলা চালান। পরে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘তারা দলবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের মুখে ছিল জয় বাংলা স্লোগান। তারা বলে, ঢাকা মহানগর আমরা নিয়ন্ত্রণ করি। আমাদের ওপর কথা বলার কে আছে?’
কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থী ও দোকানকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি থেকে এই সংঘর্ষ বাঁধে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আয়ুব আলী বলেন, কলেজের দুই শিক্ষার্থী স্বজনদের নিয়ে হকার্স মার্কেটে বিয়ের শাড়ি কিনতে গেলে দরকষাকষি নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। তখন শাড়িমেলা নামে দোকানের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলে।
“তখন তারা চলে আসে । এরপর ওই ছাত্র চার-পাঁচজন নিয়ে আবার দোকানে গেলে হকার্স মার্কেটের মালিক-কর্মচারীরা তাদেরকে আবার মারধর করে। তখন কলেজের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।”
হকার্স মার্কেটের আরেক এক ব্যবসায়ী বলেন, সংঘর্ষে ৩০-৩৫ ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত কয়েকজনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংঘর্ষের সময় অনেক দোকান ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জসিম উদ্দিন জানান, ‘ছাত্র ও হকারদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষ হয়। আজকে পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করেছিল। তখন আমরা অতিরিক্ত ফোর্স এনে তাঁদের (শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী) তাড়িয়ে দেই।’


