বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৬০ জন সংরক্ষিত সাংসদের দাবি হিন্দু নেতাদের

Dhaka-Photo-Hindu Mohajot_Brifing-1দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করে বাংলাদেশের হিন্দুদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিন্দুদের একটি সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট’। দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির সহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষ আইন’ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এছাড়া হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষায় জাতীয় সংসদে ৬০টি আসন সংরক্ষিত রাখার দাবিও করেন মহাজোট নেতারা। শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন এবং পরে মানবশৃক্সখলে এই দাবি করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতারা।

সম্প্রতি দিনাজপুর ইসকন মন্দিরে হামলা এবং কয়েকজন ভক্তকে হত্যার প্রচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও শাস্তি দিতে আইন-শৃক্সখলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ সংগঠনটির। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত এক মানবশৃক্সখলে বক্তব্য রাখেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, রূপানুগ গৌরদাস, অধ্যাপক হীরেন বিশ্বাস, মানিক চন্দ্র সরকার প্রমূখ। এর আগে ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মহাজোটের নেতারা।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ক্ষমতার ছত্রছায়া থেকে সমাজের প্রভাবশালীরা বাড়িঘর, জমিজমা দখল করে আসছে। এছাড়া হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, ধর্মাš—র, মঠ-মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর ও কিশোরী অপহরণসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোনো না কোনো স্থান থেকে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। এ সব কারণে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা আজ বিলুপ্তপ্রায় বলেও জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যারা নির্য়াতন করছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে আইন-শৃক্সখলা বাহিনী। দোষীদের বিচার হচ্ছেনা বিধায় হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে চলছে। রমনা কালী মন্দিরে চলমান মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাঁধা, ভক্তদের উপর হামলা, পুলিশী লাঠিচার্জ, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, কুষ্টিয়া ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। পটুয়াখালীতে হিন্দু পরিবার উচ্ছেদ, সুনামগঞ্জে নাবালিকা অপহরণ ও ধর্মান্তর, কান্তজীর মন্দিরে বোমা হামলা, নেত্রকোনা জেলার বারাহাট্টা উপজেলায় অর্জুন বিশ্বাসকে হত্যা করেছে। ফরিদিপুর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি আলোক সেন ও দিনাজপুর ইসকন মন্দিরে হামলা এবং রবীন্দ্রনাথ রায় সহ কয়েকজন ভক্তকে হত্যার প্রচেষ্টাকারীদের দ্র“ত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছেন গোবিন্দ চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে রমনা কালীমন্দিরে পুলিশ হিন্দু নারীদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে, লাঠিচার্জ করেছে। কুষ্টিয়া ও গোপালগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। পটুয়াখালীতে হিন্দু পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। কয়েক দিন আগেও নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার অর্জুন বিশ্বাসকে দিনের বেলায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষায় জাতীয় সংসদে ৬০টি আসন সংরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়ে দীনবন্ধু রায় বলেন, দেশে নির্বাচন এলেই হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হওয়া সত্বেও ভোট দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায় দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটায়। আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় হিন্দু সম্প্রদায় আতঙ্কিত বলেও উলে­খ করেন তিনি।

এদিকে পরে শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের এই দাবি জানায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান হিন্দু জাতীয় মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে।

তনি বলেন, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির ও ইসকন মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করতে হবে। দুদিন আগে ঢাকার ধামরাই কলেজের শিক্ষার্থী মলি­কা চক্রবর্তীর ওই এসিড হামলার ঘটনার কথা তুলে ধরে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায় ও মহাসচিব আনন্দ কুমার বিশ্বাসসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন