আমার চলচ্চিত্র দেখে কেউ যেন না বলে নায়িকাটা অনেক হট, অনেক বেশি সেক্সি। আমি অভিনয়টা এমনভাবে করতে চাই, সবাই যেন বলে মেয়েটা অনেক ভালো অভিনেত্রী। আমি সব সময় সেই চেষ্টাই করি। নাচ গানের চলচ্চিত্র আমার খুব বেশি ভালো লাগে না। ভালো লাগে অভিনয়নির্ভর চলচ্চিত্র। এমনই একটি চলচ্চিত্র বাপজানের বায়স্কোপ।’ আলাপচারিতায় সিনেমার নায়িকা সানজিদা তন্ময় এসব কথা বলছিলেন। চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
তরুণ অভিনেত্রী হিসেবে ‘বাপজানের বায়স্কোপ’ চলচ্চিত্রের কোন কোন দিক দর্শকের নজর কাড়বে বলে মনে করেন?
এটা মুক্তিযুদ্ধের গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র। কিন্ত এতে যুদ্ধের কোনো দৃশ্য দেখানো হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। যা দর্শককে নতুন করে ভাবাবে। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এখনও সেই যুদ্ধটা মানুষের মধ্যে আছে। আমাদের দেশ স্বাধীন হলেও মেন্টালি আমরা এখনও স্বাধীন হতে পারিনি। সমাজের সাধারণ মানুষের জীবনবোধ থেকে সেটা তুলে ধরেছেন কাহিনীকার মাসুম রেজা ও নির্মাতা রিয়াজুল রিজু।
আপনার চরিত্রটির নাম পানাই। চরিত্রটি নিয়ে বলবেন?
এই চলচ্চিত্রে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। উনি আমাকে একটা পতিতালয় থেকে বিয়ে করে নিয়ে আসেন। রাখেন একটা চর এলাকায়। আমি তাকে না জানিয়েই গ্রামের মানুষদের সহযোগিতা করতে থাকি। পরে যখন সে সেটা জানতে পারেন আমাকে সেখান থেকে আবারও অন্য এলাকাতে নিয়ে যান।
প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পেল, কেমন লাগছে?
আমি এখনও ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারছি না। শুধু শুনেছি। ছবি মুক্তি পেলে আর্টিস্টরা দর্শকের সঙ্গে সিনেমা দেখে। অনেক লোকজন থাকে সেখানে। দর্শক চলচ্চিত্র দেখে আলোচনা সমালোচনা করে। আমি নিজেই এবার এই অভিজ্ঞতা ফেস করতে যাচ্ছি। ভাবতেই অন্যরকম লাগছে। আশা করছি ভালো ফিডব্যাক পাবো।
ফিল্মে আসবেন কিনা- এ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ ছিল আপনার…
সেটা ছিলো এক সময়। কারণ হলো চলচ্চিত্রে অভিনয় করার জন্য অনেক কিছু জানতে হয়। যেমন নাচ গান ফাইটিং। আমার এগুলো জানা ছিলো না। আমি শুধু মাত্র এ্যাকটিং করতে চেয়েছি। ‘বাপজানের বায়স্কোপ’ চলচ্চিত্রটি পুরোটাই গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র। তাই আমাকে নাচ গান করতে হয়নি। এ্যাকটিংই করেছি। ছবি দেখার ক্ষেত্রেও এই ধাঁচের চলচ্চিত্রই বেশি দেখি।
কাদের অভিনয় আপনাকে অভিনেত্রী হতে প্রেরণা যোগায়?
বাংলাদেশের নায়িকা শাবনুর ও বলিউডের বিদ্যা বালান। তাদের দুইজনের আমি অনেক বড় ফ্যান। ছোট পর্দার ক্ষেত্রে এই তালিকাটা অনেক লম্বা- জয়া আহসান, তিশা, তমালিকা, সুমাইয়া সিমুসহ আরও অনেকেই আছেন আমার প্রিয় অভিনেত্রীর তালিকায়।
ক্যারিয়ার নিয়ে কি ভাবছেন?
বাপজানের বায়স্কোপ চলচ্চিত্রটির উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। এই চলচ্চিত্রে দর্শক আমাকে কিভাবে নিচ্ছে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করলে ভবিষ্যৎ ক্যরিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাববো।
বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
‘শুন্য’ ও ‘শেষ চুম্বন’ দুটো চলচ্চিত্রের কাজ করছি। সেগুলোর গানের দৃশ্যায়ন বাকি আছে। ‘পাল্টা হাওয়া’, ‘তিন গোয়েন্দা’সহ কয়েকটা ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। মাঝেমধ্যে করছি সিঙ্গেল নাটকের শুটিং।
সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশে কী বলতে চান?
আমরা অনেক কষ্ট করে একটা চলচ্চিত্র বানিয়েছি। চরে শুটিং করতে গিয়ে কত কষ্ট করেছি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আর এই সব কিছু করেছি আমাদের প্রিয় দর্শকদের জন্য। সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখবেন।


