জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, মানুষ বাঘের বদলে কুমিরের পেটে যেতে চায় না। মানুষ ঘরে চুপ করে বসে আছে এ জন্যই যে, ‘আপদ-বালা’ দুটিই যাক। এ জন্যই বিএনপির অবরোধে মানুষ সাড়া দেয়নি।
শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলনে’র প্রথম কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আ স ম রব এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে যারা আছেন তারা তাকে অন্ধকারে রেখেছেন। মানুষের মনে যে বিষবাষ্প জমা হচ্ছে তার বিস্ফোরণ ঘটলে পরিণতি কী হবে তা বলা মুশকিল। প্রধানমন্ত্রীকে যারা পাহারা দেন, তাদের এড়িয়ে তিনি যেন বস্তি, গ্রাম কিংবা মহল্লায় গিয়ে মানুষকে জিজ্ঞাসা করেন, দেশ কেমন চলছে?
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পারবেন না। কোনো দেশের রাজা-বাদশা কিংবা ক্ষমতাসীন সরকার একা সেটি পারেননি। আমরা একা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করিনি। সাড়ে সাত কোটি মানুষই মুক্তিযুদ্ধ করেছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি দিবস ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে রব বলেন, এত দিবস হচ্ছে কিন্তু শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো দিবস হচ্ছে না কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়েছে, কিন্তু রাজাকারের তালিকা করা হলো না কেন?
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সিরাজুল আলম খান দেশের সবচেয়ে বড় জীবিত রাজনৈতিক দার্শনিক। তিনি এ দেশের সব সমস্যা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু কেন জানি লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন! অনেক সময় অতীতের কথা নাড়া দিতে হয়। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য মুক্ত রাজনীতি প্রয়োজন।
সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ হাসান শাহীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আবদুল মতিন হিরু, অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, অ্যাডভোকেট তাসমিনা রানা, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।


