বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নৌ বাহিনীর মসজিদে বোমা হামলাকারীর পরিবার পলাতক

Dinajpur-Romzan-navy-Homeচট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি ঈশা খাঁ’র মসজিদে ‘ককটেল’ বিস্ফোরণের ঘটনার পর বাড়ি ছেড়েছে আটক একজনের পরিবারের সদস্যরা।

আটক রমজান আলীর বাড়ি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আহসান হাবিব।

স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, রমজানের বাবা আহসান হাবিব পাশের গ্রামের ছোট ভাদগা মসজিদের ইমাম। রমজানের বড় ভাই রাশেদ পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন।

শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনের দরজায় তালা লাগানো; তবে খোলা ছিল বাড়ির পেছনের ফটক।

বাড়িতে ঢুকে পাওয়া গেল তরিকুল নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি নিজেকে ওই বাড়ির ‘কাজের লোক’ বলে পরিচয় দেন। তার বাড়ি পাশের বাঘমারা গ্রামে।

তরিকুল জানান, শুক্রবার বিকেলে রমজানের বাবা তার বড় ছেলে রাশেদকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বীরগঞ্জ উপজেলার কল্যাণী গ্রামে গেছেন।

হঠাৎ কেন ঘর-বাড়ি ফেলে শ্বশুর বাড়ি গেলেন জানতে চাওয়া হলে নিরুত্তর থাকেন তরিকুল।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঈশা খাঁ’র মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অবিস্ফোরিত আরও কয়েকটি বিস্ফোরকসহ একজনকে আটক করা হয়েছে বলে আইএসপিআরের ভাষ্য।

অবশ্য পুলিশকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে রমজানসহ দুই জনকে আটকের খবর এসেছে। অপরজন হলেন আব্দুল মান্নান। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায়।

শনিবার র‌্যাব-১২ এর কর্মকর্তা মহীউদ্দীন ফারুকী জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে ককটেল হামলার ঘটনায় আব্দুল মান্নান নামে একজন গ্রেপ্তার হওয়ার খবর তিনি জেনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইলে। আমাদের খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

তরিকুল জানান, রমজানের বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চলে যাওয়ার পর তার বাড়িতে রাখা অন্যজনের চারটি গরু সকালের দিকে গরুর মালিকরা নিয়ে গেছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে র‌্যাব সদস্যরা ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

রমজানের প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম জানান রাজু দিনাজপুর পলিটেকনিকে পড়া-লেখা করত। তবে পড়া শেষ করেছে কিনা তিনি তা জানেন না।

প্রায় পাঁচ বছর আগে রমজান এলাকা ছেড়েছে বলেও জানান তিনি।

নৌবাহিনীতে ব্যাটম্যানের চাকরি নিলেও এতদিন গ্রামের সবাই জানতেন রমজান ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে। প্রায় দেড় বছর পর গত কোরবানি ঈদে সে বাড়ি এসেছিল।
ওই পল্লী চিকিৎসক জানান, রমজানদের পরিবারের সদস্যরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। তবে রমজান গ্রামে কারও সঙ্গে তেমন কথা-বার্তা বলতেন না।

রমজানের চাচাত ভাই দাবি করে রফিকুল ইসালাম নামে একজন জানান, তিনি শুক্রবার দুপুরে হাটে গিয়েছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরে চাচাদের চলে যাওয়া এবং র‌্যাবের তল্লাশির কথা শোনার কথা জানান।

এদিকে র‌্যাবের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “ওই ঘটনায় আমরা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তে বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।”

আরও পড়ুন