বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

১৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসির আইনি লড়াই

ec-logo_181301_181318ভোটের মাঠে লড়াইয়ে থাকা ১৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে কয়েক মেয়র প্রার্থীসহ সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ছাড়া আদালতের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থীকে খুঁজছে ইসি। তারা হলেন- দাউদকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাজাহান মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার। নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এদিকে নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীকে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইসির গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল রোববার ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ইসি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে বলেছেন, আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সংখ্যা অনেক। সঠিক পরিসংখ্যান এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ আজও (রোববার) বেশ কয়েকটি আদেশ পাওয়া গেছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা বলছেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করার ফলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের আদেশে ৭-৮ মেয়র প্রার্থী ছাড়া অন্য সবাই কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর। দু’ধরনের কাউন্সিলর পদের জন্য ব্যালট পেপার ইতিমধ্যেই ছাপার কাজ শেষ করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপার কাজও প্রায় শেষ মুহূর্তে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকলে সময়মতো ব্যালট পেপার কেন্দ্রে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে তাদের শাখায় ১৯৪টি উচ্চ আদালতের আদেশের কপি জমা পড়েছে। এখনও অনেক আদেশ আসছে। তবে বেশ কয়েকটি পৌরসভা থেকে প্রার্থীরা আইনজীবীর সত্যায়িত কপিও জমা দিয়েছেন। কিছু সন্দেহজনক কপিও তাদের কাছে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনের বিবেচনার জন্য ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা আদেশের কপি পেয়ে প্রার্থিতা বৈধ করে দিয়েছেন। তবে ভোটে এসব প্রার্থী জয়ী হলেও পরবর্তীতে আদালতে তাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা হলে তারা পদ হারাবেন।

আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- শরীয়তপুর সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কোতয়াল, চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী সারোয়ারুল আবেদিন খান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রব্বানী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল হামিদ সরদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ ফরাজী।

সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থীকে খুঁজছে ইসি: কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাজাহান মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারকে খুঁজছে ইসি। ৪ নভেম্বর ইসিতে লিখিত অভিযোগে শাজাহান মিয়া বলেন, স্থানীয় এমপির সমর্থকরা বাধা দেওয়ার কারণে তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এই আবেদনে ইসির সাড়া না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ১৭ ডিসেম্বর ওই দু’জনের মনোনয়নপত্র গ্রহণে আদালতের আদেশ পায় ইসি। এরপর থেকে তাদের দু’জনকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ দিয়ে লাপাত্তা বিএনপি প্রার্থী: নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোস্তফার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির সামনে কেউ হাজির হননি। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, গতকাল তদন্ত কমিটির তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গোলাম মোস্তফা তার অভিযোগে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাকে জোরপূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে। অভিযোগপত্র কমিশনে নিয়ে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার পরে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাকে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কপিতে সই নেয়। রাত ১০টার পরে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবরার হোসেন ও জেলা প্রশাসকের নম্বরে ফোন করে তাদের সাড়া পাননি।

এই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় ইসি। কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহসীনুল হক ঘটনার তদন্তে চাটখিল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে শনিবার শুনানির আয়োজন করেন। এতে প্রার্থী বা প্রার্থীর প্রতিনিধি মাহবুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।

সাতক্ষীরার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত: সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পর গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়

আরও পড়ুন