ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত বাস সেবা। চারটি মিনিবাস হাতিরঝিলের চারপাশের দশটি স্টপেজ থেকে যাত্রী তুলবে এবং নামিয়ে দেবে। টিকেট পাওয়া যাবে রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বৌবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডার ছয় কাউন্টারে। কারওয়ানবাজার থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত ভাড়া ১৫ টাকা। ফিরতি পথেও একই ভাড়া।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বুধবার সকালে এই বাস সেবার উদ্বোধন করে বলেন, “ঢাকাবাসীর আনন্দ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হবে হাতিরঝিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, হাতিরঝিলকে যেন ধীরে ধীরে আরও সৌন্দর্য্যমণ্ডিত করা হয়। এখানে তিনি একটি অপেরা হাউজ দেখতে চেয়েছেন, সেটাও একদিন বাস্তবায়িত হবে।”
এই বাস সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া এইচ আর ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। রামপুরা থেকে কাওরানবাজার গেলে ১৫ টাকা লাগবে। আর বাসে করে পুরো হাতিরঝিল ঘুরলে দিতে হবে ৩০ টাকা।
রাজউকের হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক জামাল আক্তার ভূঁইয়া জানান, এইচ আর ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড প্রতি মাসে রাজউককে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেবে।
এক সময় পুরনো খাল নৌকায় পার হয়ে রামপুরার বাসিন্দারা এপারে তেজগাঁওয়ে আসতে পারতেন। সংস্কার কাজ শুরুর প্রায় ছয় বছর পর ২০১৩ সালে প্রকল্পটি উন্মুক্ত করা হলেও বৈধ গণপরিবহনের কোনো ব্যবস্থা এতোদিন ছিল না।
মাঝে অনুমোদনবিহীন মাইক্রোবাস চলত হাতিরঝিলে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত নভেম্বরে তা বন্ধ হয়ে গেলে পারাপারে বিপাকে পড়েন রামপুরা থেকে কারওয়ান বাজারগামী নগরবাসী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “এ প্রকল্পের জন্য এলাকার মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখানে বসতি ছিল, মসজিদ ছিল, মাদ্রাসা ছিল। দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তারা তাদের সফলভাবে স্থানান্তরে সক্ষম হয়েছেন।”
আগে রামপুরা থেকে কারওয়ানবাজারে যেতে যেখানে ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগত, সেখানে এখন হাতিরঝিল হয়ে বাসে করে ১০ মিনিটেই যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ২০০৭ সালে হাতিরঝিল সংস্কার প্রকল্প শুরু হয়। পুরনো পয়ঃনিষ্কাশন খালের জায়গায় মাটি খনন করে তৈরি করা হয় লেক।
৩০২ একর জামির ওপর গড়ে ওঠা এ প্রকল্প এলাকায় মোট ১৬ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই নগরে হাতিরঝিল ঘিরে এক টুকরো খোলা জায়গা পরিণত হয়েছে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে।
পর্যায়ক্রমে হাতিরঝিলের সঙ্গে গুলশান, বারিধারা ও বনানী লেককেও যুক্ত করা হবে বলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জানান।
অন্যদের মধ্যে গণপূর্ত সচিব মঈনুদ্দিন আব্দুল্লাহ ও রাজউক চেয়ারম্যান জে এম জয়নাল আবেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


