প্রচারণার সময় যশোর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী মারুফুল ইসলাম ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিএনপি ও যুবদলের চারজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার জন্য আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করা হয়েছে। আহত চারজনের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল আমিনকে (৬০) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার আক্কাস আলী বলেন, আজ সকালে খবর আসে মিশনপাড়া এলাকায় মেয়রপ্রার্থী মারুফুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বাড়ির ভেতর থেকে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের সময় হামলা চালিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিএনপির প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় দুপুরে যশোর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সেখানে বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘মিশনপাড়া এলাকায় প্রচারণায় গেলে সকাল নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। ভয়ে আমরা দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল আমিনকে পিটিয়ে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে।’ মারুফুল ইসলাম নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের স্বার্থে নির্বাচনের দিনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানান।
বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম আজ বিকেলে জানান, হামলার ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পরই প্রেসক্লাব মিলনায়তনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলার কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই। আর যদি হামলার ঘটনা ঘটেও থাকে তাতে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত থাকার সুযোগ নেই।


