বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

অবৈধ মেলা, সহায়তায় পুলিশ

Uttara-Melaরাজধানীর আবাসিক এলাকা উত্তরা মডেল টাউনের ১৩ নম্বর সেক্টরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জমির (প্লট) মধ্যে অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে ‘বিজয় মেলা’। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে এ মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় শতাধিক দোকানপাট বসেছে। সরকার দলীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় এ মেলা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিটি দোকান থেকে অগ্রিম ভাড়া বাবদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ।

যদিও মেলা আয়োজকরা বলছেন, তাঁরা রাজউকের অনুমতি নিয়েই এ মেলা করছেন। আর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তাঁরা। তবে রাজউক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের মেলার কোনো অনুমতির কথা তাদের জানা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরা মডেল টাউনের ১৩ নম্বর সেক্টর সোনারগাঁও জনপথ সড়কের পাশে রাজউকের জায়গায় ‘বিজয় মেলা’ বসানো হয়েছে। মেলায় মাঠের চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। আর মেলায় প্রবেশের জন্য সামনে একটি মূল গেট ও চারপাশে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য আরো দুটি ছোট গেট রয়েছে। বিজয় মেলায় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী, বাহারি খাবার, ছোট ও বড়দের পোশাক, কম্বল, কসমেটিকসসহ নানা দোকানপাট রয়েছে। বিশেষ করে শীতের পোশাক ও কম্বলের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

জানা গেছে, ‘বিইউএইচবি’ নামের একটি সংগঠন এই বিজয় মেলার আয়োজন করেছে। ১ ডিসেম্বর থেকে মেলা শুরু হলেও ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। মেলা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন জি মোস্তফা ও আবদুর রহমান নামে দুই ব্যক্তি।

মেলার পোশাক বিক্রেতা আকাশ এ প্রতিবেদকের জানান, মেলায় শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে মেলা কমিটি ও সরকার দলীয় কতিপয় নেতা অগ্রিম ভাড়া বাবদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন।

এদিকে মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, মেলা দেখা শেষে রিকশাযোগে বাসায় ফেরার পথে লোকজন মাঝেমধ্যেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। মেলাকে কেন্দ্র করে ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের আনাগোনাও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে এ এলাকায়।

তবে অগ্রিম ভাড়া নেওয়ার কথা ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন মেলার পরিচালক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মেলায় প্রতিটি দোকানদারকে বলা হয়েছে, তাদের বেচা-কেনার ওপর ভিত্তি করে কিছু টাকা মেলা শেষে কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।’

মেলার অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুর রহমান বলেন, ‘এই মেলা বসানোর অনুমতি আমরা রাজউক থেকে এনেছি ।’ তবে লিখিত না মৌখিক অনুমতি সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।

এ ব্যাপারে রাজউক উত্তরার উপপরিচালক বাবুল আহমেদ আজ শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানি না। আমাদের কাছ থেকে মেলার ব্যাপারে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। তবে এ ধরনের মেলার জন্য সাধারণত রাজউক চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কেউ অনুমতি নিয়ে থাকলে আমার জানা নেই।’

এ ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান জি এম জয়নুল আবেদীন রাতে বলেন, ‘এ রকম কোনো কিছু আমার মনে পড়ছে না। কেউ মেলার অনুমতি নিলে আমার মনে থাকার কথা।’

আর মেলা সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সদস্যরা।

এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ‘বিজয় মেলায় আমরা দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছি। মেলায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তবে মেলার অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা করেন ওসি।

আরও পড়ুন