বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

মালদ্বীপের কাছে শোচনীয় পরাজয় বাংলাদেশের

Bangladesh(Green)Maldives(Red)সাফ ফুটবলের শিরোপা পুনরুদ্ধার তো দূরের কথা, সেমি-ফাইনালেই ওঠা হলো না বাংলাদেশের। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় এক রকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। পরের ম্যাচে আফগানিস্তান ভুটানকে হারানোয় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ছিটকে পড়ল মামুনুলরা।

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে উড়ে যাওয়ার পর শনিবারের এই হারে বাংলাদেশের শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ ছিল শুধু কেবল কাগজে-কলমে। দিনের পরের ম্যাচে ভুটান ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ায় সেমি-ফাইনালে উঠে যায় মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান।

প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ।

২০০৩ সালের সাফ ফুটবলে একমাত্র শিরোপা জেতা বাংলাদেশ ব্যর্থতার বলয়ে বন্দী হয়েই থাকল। ২০১১ ও ২০১৩ সালেও গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল মামনুলরা।

আরাধ্য জয় পাওয়ার জন্য সেরা একাদশে চার পরিবতর্ন আনে বাংলাদেশ। চোট পাওয়া নাসিরউদ্দিন চৌধূরী, ইয়ামিন মুন্না, নাসিরুল ইসলাম ও সোহেল রানার জায়গায় তপু বর্মন, ওয়ালি ফয়সাল, রায়হান হাসান ও জামাল ভূইয়াকে খেলান কোচ মারুফুল হক। মাঠে এর সুফলও পাওয়া যায়। রক্ষণ সামলে বলের দখল রেখে ঘন ঘনই আক্রমণে যায় মামুনুলরা।

প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি রেখে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করলেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোল পায়নি মারুফুলের দল। শুরু থেকে খেলা রনি ও বদলি নামা স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেননি।

২৬তম মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ করে বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে ওয়ালির লম্বা করে বাড়ানো বল জাহিদ হোসেন লাইনের কাছ থেকে হেড করে গোলের সামনে ফেলতে চেয়েছিলেন, তবে বল পোস্টের বাইরের দিকে লাগে।

তিন মিনিট পর প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি নষ্ট করেন শাখাওয়াত হোসেন রনি। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে গোলপোস্টের সামনে বল পেলেও সামনে থাকা কেবল গোলরক্ষককেও ফাঁকি দিতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। বল মেরে দেন তার গায়ে।

৩৬তম মিনিটে বক্সের একটু ওপরে বিপজ্জনক জায়গায় মোনায়েম খান রাজু মোহামেদ হামজাকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় মালদ্বীপ। তবে অধিনায়ক আশফাকের শট পোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায়। তবে একটু পরে পেনাল্টি থেকে দলকে ঠিকই এগিয়ে দেন দলটির সেরা খেলোয়াড়।

৪১তম মিনিটে বক্সের মধ্যে ইমাজের শট ওয়ালির হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আশফাকের জোরাল শট আটকাতে পারেননি বাংলাদেশ গোলরক্ষক শহীদুল। আনন্দে মেতে উঠে বাদ্য-বাজনা নিয়ে ত্রিভান্দ্রামের গ্যালারিতে আসা মালদ্বীপ সমর্থকরা।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া আক্রমণের দরকার ছিল। কিন্তু উইংয়ে জাহিদ নিজের ছায়া হয়ে থাকলেন। অন্য উইং দিয়ে হেমন্তর আক্রমণ যা একটু বলার মতো ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। এবার হেমন্তের ক্রসে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি অধিনায়ক মামুনুল।

৭২তম মিনিটে মিডফিল্ডার জামালকে তুলে নিয়ে স্ট্রাইকার জীবনকে নামান বাংলাদেশ কোচ। একটু পর অধিনায়ক মামুনুলের ফ্রি-কিকে বল পেয়ে রনি ঠিকমতো শট নিতে না পারায় আরেকটি সুবর্ণ ‍সুযোগ নষ্ট হয়। জামাল উঠে যাওয়ার পর মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ একটু একটু করে বেরিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের মুঠো থেকে। শেষ দিকে রনির জায়গায় জুয়েল রানা, ওয়ালির বদলে সোহেলকে নামান বাংলাদেশ কোচ।

৮৭তম মিনিটে মামুনুলের কর্নারে মালদ্বীপের এক ফুটবলার হেড করে ফেরালে বক্সের বাইরে পেয়ে যান সোহেল রানা। বদলি এই মিডফিল্ডারের তড়িৎ ভলি মালদ্বীপের এক ফুটবলারের মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

বাংলাদেশের স্বস্তি কেড়ে নিতে বেশি সময় লাগেনি মালদ্বীপের। দুই মিনিট পরই ডিফেন্ডার তপু বর্মনকে বোকা বানিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বদলি ফরোয়ার্ড নিয়াজ হাসান।

যোগ করা সময়ে আর এক গোল করে গ্রুপের টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে নেয় মালদ্বীপ। ডিফেন্ডার রায়হানের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে প্রতিআক্রমণে যায় মালদ্বীপ। বদলি ফরোয়ার্ড নাশিদ আহমেদ শহীদুলকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ৩-১ করে দেন।

মালদ্বীপের সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে মাথা নীচু করেই মাঠ ছাড়তে হয় মামুনুলদের।

আগামী সোমবার আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে। একই দিনে ভুটান ও বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নিয়ম রক্ষার ম্যাচে।

আরও পড়ুন