বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

তাহলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মরল কারা?

Mahbub+minhazগাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগে র‌্যাব যাদের ধরে নিয়েছিল, তারা দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুজনই এখন নিজ নিজ বাড়িতে রয়েছেন। রোববার মধ্যরাতের অভিযানে দুজন নিহত হওয়ার পর কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে মাহবুবুল আলম (৩০) ও মিনহাজুল (২৫) নামে এই দুজনের মারা যাওয়ার খবর এসেছিল।

এদিকে অভিযানে যে দুই ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছেন, তাদের পরিচয় র‌্যাব কিংবা পুলিশ কেউই সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জানাতে পারেনি। লাশ দুটি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।

নিহতদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় দুজন নিহতর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে চেয়ে আছেন গোয়েন্দারা। তবে সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাদের ময়না তদন্ত শেষ হয়নি।  গাজীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস ছালাম জানান, র‌্যাবের গুলিতে নিহতদের ময়না তদন্ত এখনও চলছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যুগীতলা এলাকায় রবিবার গভীর রাতে র‌্যাবের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে দুইজন নিহত হন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহতরা হচ্ছেন মাহবুব ও মিনহাজুল।

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে এই দুজন রোববার দুপুরে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের র‌্যাব তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন এই নামে দুইজন কারাগার থেকে সেদিনই (রবিবার) ছাড়া পেয়েছেন।

এরপর মধ্যরাতে ভোগড়া বাইপাস সড়কের কাছে যোগীতলায় র‌্যাবের অভিযানে দুজন নিহত হলে মাহবুব ও মিনহাজকে নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, র‌্যাব ধরে নিলেও তাদের ছেড়ে দিয়েছে। মাহবুব রয়েছেন গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পূর্ব এনায়েতপুরে তার বাড়িতে। মিনহাজও সন্ধ্যায় পৌঁছে যান বগুড়ার শেরপুরে তার বাড়িতে।

মাহবুব ও মিনহাজ জঙ্গি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে ১০ বছর বন্দি থেকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন রোববার দুপুরে।

দুজনই বলেন, মুক্তির পরপরই তাদের ঢাকার উত্তরায় র‌্যাব-১ এর দপ্তরে নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তাদের কেন নেওয়া হয়েছিল- জানতে চাইলে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘রুটিন ওয়ার্কের’ অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমরা জঙ্গিদের বিষয়টি সব সময় মনিটরিং করি। কে কখন ছাড়া পেল, কে কোথায় গেল ইত্যাদি। তারা ছাড়া পাওয়ার পর তাদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করি যে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।”

জয়দেবপুরের পূর্ব এনায়েতপুরের আলাল উদ্দিনের ছেলে মাহবুব ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্টের বোমা হামলার মামলায় ১০ বছর জেল খাটেন।

জেএমবির ওই হামলার পর ওই বছরের ২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাহবুব। তখন তিনি হাতিমারা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তার আর লেখাপড়া করা হয়নি।

দণ্ডিত মাহবুব দাবি করেছেন, তিনি জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ছিলেন না।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কামারখন্দ এলাকার কৃষক আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মিনহাজকে এলাকার মানুষ সানোয়ার নামে চেনে।

তার ভগ্নিপতি ফয়সাল সেলিম বলেন, র‌্যাব ছেড়ে দেওয়ার পর সোমবার দুপুরে বগুড়া রওনা হন মিনহাজ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় মিনহাজ বাড়িতে পৌঁছান বলে তার বড় বোন কুলসুম বেগম জানান।

ওই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তবিবর রহমান জানান, মিনহাজ বাড়িতে ফিরে এসেছে।

মিনহাজ জানান, নওগাঁর একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় তাকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর।

আদালতের রায়ে ১০ বছর জেল খেটে ২৩ বছর বয়সে মুক্তি মিলেছে মিনহাজের। তবে ওই মামলার অভিযোগ কী ছিল, তাও বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন মিনহাজ।

আরও পড়ুন