কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবের খাবার খেয়ে আছিয়া বেগম (৪৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়াও অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে সব মিলিয়ে অর্ধশতাধিত অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত আছিয়া বেগম কালিকাপ্রসাদ উত্তর পাড়া এলাকার আপ্তাব উদ্দিনের স্ত্রী। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ২৪ জনের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সাতজনকে ঢাকার মহাখালির আইসিডিডিআর,বি তে (কলেরা হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু ও অসুস্থ্যতার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: বুলবুল আহম্মেদ।
তিনি আরো জানান, তাঁর নেতৃত্বে এরই মধ্যে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করে রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণসহ চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে অসুস্থ রোগীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালিকাপ্রসাদ উত্তরপাড়া গ্রামে মৃত আছিয়া বেগমের বাড়িতে যান। সেখানে মৃতের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, স্কুলের বিতরণকৃত খাবার খেয়ে আছিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তিনি ঘটনার তদন্তসহ প্রায়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অসুস্থ রোগী ও তাদের পরিবারের লোকজন জানায়, ২৬ ডিসেম্বর শনিবার স্থানীয় কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনার আয়োজন করে আয়োজক কমিটি। দিনভর অনুষ্ঠান শেষে বিকালে আগত দর্শকদের মাঝে রান্না করা বিরিয়ানীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। তারা ওই বিরিয়ানীর প্যাকেট যার যার বাড়ি নিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার গ্রহণের পর সন্ধ্যা থেকে তারা বমি, পেটব্যথাসহ পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন। তারা প্রথমে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে গত দুইদিন রোববার ও সোমবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে আছিয়া বেগম স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গেলে রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য স্কুলের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সুলায়মান মিয়া এবং সদস্য সচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


