ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের প্রতি বিমানবন্দরের হয়রানিসহ নানা অভিযোগের সমাধানে সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের বিষয়ে তারা সমাধান দিয়ে থাকেন। এমনই একটি সমাধানের ব্যাপারে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের একজন পাঠক জানিয়েছেন।
ওই যাত্রীর লেখা এখানে হুবহু দেওয়া হল:
মুহাম্মদ ইউসুফ, নির্বাহী মেজিস্ট্রেট, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতীক বিমানবন্দর, ঢাকা গত ২৯ ডিসেম্বর একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন।
বিষয়টা হল, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর ইউনাইটেড এয়ার এর ফ্লাইট ছিল দুপুর ২.১৫ তে। সেটা তারা পিছিয়ে ৪.৩০ করে। বিকাল ৫টার দিকে বাসে উঠিয়ে প্লেনের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং বলে যে আজ ফ্লাইট যাবে না। তারা টাকাও ফেরৎ দিবে না বা আজ রাতের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও করবে না। ড্যামারেজও দিবে না। ডোমেস্টিক ফ্লাইটে নাকি সেরকম সিস্টেম নেই। চিটাগাং এর ফ্লাইট কিন্তু তারা মিস করছে না। মঙ্গার দেশের রংপুর বলে তারা মানুষগুলোকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করল। হুমকি ধামকিও দেয়া শুরু করেছিল। পেসেঞ্জারদের মধ্যে দুজন ডিসি, রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪ জন অধ্যাপক, কৃষি অফিসার, আমেরিকা থেকে আসা পেসেঞ্জারও ছিল।
এমতাবস্তায় আমি ফোন করি এয়ারপোর্ট মেজিস্ট্রেট কে। ৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসেন নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ। সব কিছু শুনে উনি ইউনাইটেড এর অথোরিটি ও যাত্রীদের এয়ারপোর্ট কোর্টে নিয়ে যান। সেখানে উনি রায় প্রদান করেন:
১। যারা আর যেতে চায় না তাদের সমূদয় টাকা (কোন ভ্যাট, ট্যাক্স কাটা যাবে না) এখনই ফেরৎ দিতে হবে,
২। যারা যেতে চায় তাদের আজকে থাকা, খাওয়া, পরিবহনসহ যাবতীয় খরচ এবং আগামীকাল সকাল ৭.৩০ টার মধ্যে (একজন যাত্রী হলেও) সৈয়দপুর পৌছায় দিতে হবে।
উনি যাত্রীদের ওনার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দিয়েছেন। রায় বাস্তবায়নে ইউনাইটেড এয়ার কোন গড়িমসি করলে জানাতে বলেছেন।
এয়ারপোর্ট মেজিস্ট্রেট আসলেই যাত্রীদের জন্য অনেক কাজ করছেন। আজ আমি স্বচক্ষে সেটা প্রত্যক্ষ করলাম। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদের।


