দুই হাজার পনেরো সালে, নতুন করে আঁকা হয় বাংলাদেশের মানচিত্র। শেষ হয় ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে জাতীয়তার পরিচয়ের পাশাপাশি বন্দিদশা মুক্তি পায় ৫৫ হাজার মানুষ। শান্তিপূর্ণভাবে ভূখন্ড বিনিময় করে, নিজেদের নাগরিকত্ব বেছে নিয়ে, বিশ্ব ইতিহাসে তারা অনন্য নজীর গড়ে ৩১শে জুলাই মধ্যরাত।
৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। পরিচয়হীনতা পেছনে ফেলে উড়লো লাল-সবুজের পতাকা বেজে উঠলো জাতীয় সংগীত।
৬৮ বছর পর সফল কূটনৈতিক তৎপরতার পর বাংলাদেশ-ভারতের শান্তিপূর্ণ ভূমি হস্তান্তর। বাংলাদেশ তার মূল ভুখণ্ডে যুক্ত করলো ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি।
বঞ্চনা বা মাথা নিচু করে পথ চলা নয় এবার মুক্তির আনন্দ। এক সময়ের ছিটের বাসিন্দাদের সামনে এখন নতুন আশা। পেতে শুরু করেছেন শিক্ষা-বিদ্যুতসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ আইনজীবী রেড ক্লিপের আঁকা মানচিত্র দিয়ে শুরু হয়েছিলো এ সমস্যার। পরে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিসহ সবশেষ হাসিনা-মোদি সরকারের উদ্যোগে কাটলো আইনি জটিলতা। তাই জাতীয়তার পরিচয় পাওয়া এই নাগরিকদের এমন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়তো সারা জীবনের জন্যই।


