পাঞ্জাবের পাঠানকোট এখনও জঙ্গি মুক্ত নয়। তারমধ্যেই আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমন খবরই মিলেছে।
যদিও অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর মাজ়হার-এ-শরিফে এই হামলার কাণ্ড ঘটে।
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বলখের মাজার-ই শরিফ শহরে কনস্যুলেটে রোববার রাতে নিরাপত্তা রক্ষীদের পাল্টা গুলিতে অন্তত দুজন হামলাকারী নিহত হন বলে কনসাল জেনারেল বি সরকার জানিয়েছেন।
তিনি হামলার পরপরই টেলিফোনে বলেন, “আফগান বাহিনীর গুলিতে দুই হামলাকারী মারা গেছে। আরও দুজনের সঙ্গে গোলাগুলি চলছে।”
হামলায় কনস্যুলেটের কেউ হতাহত হয়নি বলে জানান বি সরকার।
ভারতীয় কনস্যুলেটে এই হামলা তালেবান বাহিনী চালিয়েছে, না অন্য কেউ; তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার দায়িত্বও কেউ শিকার করেনি।
আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কনস্যুলেটের প্রবেশ পথে প্রথমে দুটো বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তখনই ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশের কমান্ডোরা পাল্টা অভিযান শুরু করে।
আফগানিস্তানে ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীর সঙ্গে তখন আফগান পুলিশও যোগ দেয়।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র শের জান দুরানি রয়টার্সকে বলেন, কনস্যুলেন ভবনের সামনের সড়কের উল্টো দিকের একটি বাড়িতে লুকিয়েছিল হামলাকারীরা, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বলখ প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র মুনির আহমেদ ফরহাদ রয়টার্সকে বলেন, “ওই বাড়িতে আগেই ওঁৎ পেতে থাকা জঙ্গিরা রাত নামার পরপরই হামলা শুরু করে।”
হামলাকারীরা কনস্যুলেটে ঢুকতে চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
আফগানিস্তানে কনস্যুলেট এবং পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলা, দুটোর সঙ্গেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাত রয়েছে বলে ভারতের গোয়েন্দাদের ধারণা।
শনিবার ভোরে কয়েকজন জঙ্গি পাকিস্তান সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে পাঠানকোটে বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এতে শুরুতেই চারজন হামলাকারী এবং তিনজন সৈন্য নিহত হন।
সেখানে রোববারও গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর জানানো হয়, দুজন জঙ্গি এখনও ঘাঁটিতে লুকিয়ে আছে।
রোববার আরও চার সৈন্য এবং এক জঙ্গি নিহত হওয়ার পর ঘাঁটিতে তল্লাশি অভিযান চলছে। এর মধ্যেই আফগানিস্তানে কনস্যুলেটে হামলার খবর এল।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আর এস এন সিং বলেন, “পাঠানকোট এবং মাজার-ই শরিফে হামলার ছক এক জায়গায়ই হয়েছে।
“এর পেছনে যে আইএসআই রয়েছে, এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই,” বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভারতের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর মারুফ রাজা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাকিস্তানে আকস্মিক সফরের পর দুই বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কের বরফ যখন গলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তখনই এই দুটি হামলা হল।


