আট শর্তে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে ৫ জানুয়ারি নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে দুটি দলকেই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে তারা। তবে যদি কেউ সমাবেশের নাম করে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সোমবার বিকালে ডিএমপির সদর দফতরে এক অনির্ধারিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুই দলকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
সমাবেশ করার অনুমতির ক্ষেত্রে ডিএমপির যেসব শর্ত থাকছে-
১. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমাবেশ শেষ করতে হবে। দুপুর থেকে মাগরিবের আজানের মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।
২. মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।
৩. দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সমাবেশ করতে হবে।
৪. যানজট তৈরি করা যাবে না।
৫. সড়ক অবরোধ করা যাবে না।
৬. ব্যানার ফেস্টুনের আড়ালে লাঠিসোটা আনা যাবে না।
৭. মিছিল করে সমাবেশে আসা যাবে না।
৮. পুলিশের দেওয়া চৌহদ্দির ভেতরে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শেষ করতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে হুমকি পর্যালোচনা নিয়ে এসেছি। তাই কিছু শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে তার গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করবে। জাতি এটাই প্রত্যাশা করে। নগরবাসী এটাই বিশ্বাস করে। আমি আবারও বলছি, কেউ যদি কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা কঠোর হাতে দমন করবো। ডিএমপি এবিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশ হবে এটা স্বাভাবিক। সেজন্য সব দলকেই নিরপেক্ষভাবে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেবো। কিন্তু গণতন্ত্রের কথা বলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এমন কোনও কাজকে সহায়তা করা যাবে না। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেভাবে নিরাপত্তা দেই, ঠিক সেভাবেই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সবাই গণতান্ত্রিক রীতি নীতি মেনে সমাবেশ করবে। তবে যদি কেউ এই সমাবেশের নাম করে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে তাহলে শক্ত হাতে আমরা তা দমন করবো।’


