বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আজ সোমবার সারা দেশে ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। ওই উদযাপন নিয়ে চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সিলেট নগরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। তারা স্টেডিয়াম মার্কেটের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে। সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।
চট্টগ্রাম : আজ সকালে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যায় ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা কর্মসূচি। দুই পক্ষের চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে সভামঞ্চসহ সমাবেশে আনা আসবাবপত্র।
সংঘর্ষ চলার সময়েই ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সভায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বক্তব্য দেন। সংঘর্ষ চলাকালেই স্থান ত্যাগ করে চলে যান প্রধান অতিথি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান তারেক জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে নগরীর বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় নন্দনকাননসহ পুরো এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ঠাকুরগাঁও : বেলা ১২টায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটির নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করে শহর প্রদক্ষিণ করে। এ দিকে দুপুর পৌনে ১টায় বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ঘোষিত জেলা কমিটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি নিয়ে শহরের চৌরাস্তার দিকে এলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। নেতা-কর্মীরা রাস্তায় আগুন জ্বালালে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
সিলেট : ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আজ সিলেট নগরে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল সিলেট মহানগর পুলিশ। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুই পক্ষ পুলিশের পাহারায় মিছিল বের করে। দুপুর ২টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল ও সমাবেশ শেষে নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় স্টেডিয়াম মার্কেটের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
হামলার সময় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁরা জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় এক দোকান কর্মচারী আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান বন্ধ রেখে দুপুর সোয়া ২টা থেকে আধ ঘণ্টা রিকাবীবাজার-চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাঁরা হামলাকারীদের আটক করার দাবি জানান।
প্রতিপক্ষের দোকানে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ছাত্রলীগের কেউ রিকাবীবাজারে বিশৃঙ্খলা করেনি।
সুনামগঞ্জ : আজ দুপুর ১২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণের নেতৃত্বে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। একই সময়ে শহরের উকিলপাড়া দলীয় কার্যালয় থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আরো একটি মিছিল বের হয়। ওই মিছিলটি পৌরসভার সামনে এলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।


