বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্রের পথে আসুন: আওয়ামী লীগের প্রতি খালেদা

BNP-Noya Paltan Office-50ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মানুষের ওপর জুলুম বন্ধ করুন, গুম-খুন বন্ধ করুন। সঠিক পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল পাতানো নির্বাচন।’

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন।

অনেক দিন পর এ ধরনের উন্মুক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ করতে চেয়ে পারেনি।

আওয়ামী লীগ ‘মানুষ হত্যা’ করে দেশে ‘রাজতন্ত্র কায়েম করার’ চেষ্টায় আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি গণতন্ত্র হত্যার দিবস। ৫ জানুয়ারি, আমি চাই জানতে আজ কি কোনো ভোট হয়েছিল? আমরা দেখেছি, ৫ জানুয়ারির আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জন বিনা ভোটেই নির্বাচিত হয়ে যান। এঁদের জনগণের প্রতিনিধি বলা যায় না। আজকে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা কোনো সরকার বৈধ নয়।’

খালেদা জিয়া বলেন, “বহু চেষ্টা করেছেন। এর আগে একবার চেষ্টা করেছেন একদলীয় শাসন কায়েম করার। এখন আবার করছেন। মানুষ গুম করে, খুন করে রাজতন্ত্র কয়েম করার যে চেষ্টা আপনারা করছেন, আমার মনে হয় তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।”

সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘ফাঁদে ফেলার’ জন্য ‘কথায় কাথায়’ নতুন আইন করছেন বলে অভিযোগ করেন খালেদা।

তিনি বলেন, “জনগণকে কখনো আটকানো যায় না। যে আইনে জনগণের কোনো কল্যাণ করে না সেটা মানুষ কোনোদিন গ্রহণ করে না।”

‘গুম-খুন করে’ কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলে সরকারকে সতর্ক করেন বিএনপিনেত্রী।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “সঠিক পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন। না হলে কিন্তু জনগণ কখন জেগে উঠবে বলা যায় না। জনগণকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।”

বিএনপি দিনটিকে পালন করছে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে। আর তাই হাতে কালো পতাকা আর মাথায় কালো ফিতা বেঁধে সকাল থেকেই দলে দলে পল্টনের সমাবেশস্থলে গেছেন  বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, রুহুল কবির রিজভী। দলটির বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

আজ ৫ জানুয়ারি দিনটিকে বিএনপি পালন করছে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে। আর দিবসটি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আহ্বান জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে একই স্থানে একই সময় সমাবেশের আহ্বান জানায় আওয়ামী লীগ। আর এ কারণে শর্তসাপেক্ষে যারা যার কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি অংশ নেয়নি। ৩০০ আসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে ৫ জানুয়ারির ভোটের মধ্য দিয়ে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ভোট বর্জন করে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেয়। এ আন্দোলন চলাকালে সারা দেশে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালেও ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে সারা দেশে ব্যাপক নাশকতার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন