বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিরিয়ায় নিহত আইএস কমান্ডার সাইফুলের ‘বাংলাদেশ অধ্যায়’

lsUTaAV3VaPuজঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশী সাইফুল হক ওরফে সুজন সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও  যে দলগত জোরে সাইফুল আইএসের নজরে এসেছিলেন, তার উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংগঠনগুলোর সমিতি বেসিসের সদস্য পদ (জি-২৮৭) নিয়ে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়েছে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘আই ব্যাকস লিমিটেড’। সাইফুল ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ ডিসেম্বর আইএসের কথিত রাজধানী সিরিয়ার রাকা প্রদেশের কাছে বিমান হামলায় বাংলাদেশি সাইফুল নিহত হন। সাইফুল নিহত হওয়ার পর থেকে তার বড় ভাই আতাউল হক স্পেন অথবা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে পালিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পড়াশোনা করতে যুক্তরাজ্যের গ্লামারগান বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়) গিয়েছিলেন সাইফুল। আর আতাউল হক একজন ডেন্টাল সার্জন হলেও সাইফুলের হাতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানকে বেশ সফলতার সাথে পরিচালনা করে এসেছেন তিনি।

বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ায় এবং যুক্তরাজ্যের ‘ওয়েলস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’ এর নেতৃত্বে থাকার সুবাদে সাইফুল-আতাউলের একটি ‘পরিস্কার’ ইমেজ ছিলো সেখানে বাংলাদেশী-ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে। সেই সুবাদেই দেশে ব্যবসা শুরু করার পর পুরো প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরএনডি) ইউনিট কাজ করেছে বাংলাদেশ থেকে।

বেসিস সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কাওরান বাজারে আই ব্যাকসের বাংলাদেশ অফিস থেকে কাজ করেছে প্রায় ৬০ জনের মতো একটি দক্ষ জনবল। বেশির ভাগ সময়ে কার্ডিফ অফিসের দেখানো পথেই তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছে পুরো টিম।

বেসিসের অন্য সদস্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেছেন, কখনো সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি। খাবার বিষয়ক বিভিন্ন পোর্টাল আর ভ্যাট-ট্যাক্স বিষয়ক প্রযুক্তি বিষয়ক কাজই ছিলো বেশী। বেশ কয়েক বছর ধরে আই ব্যাকসে জিপিএস-জিপিআরএস প্রযুক্তি সহায়ক অ্যাপস তৈরির কাজ হয়েছে।

বাংলাদেশের ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড’ এর কাছেও সাইফুলের প্রতিষ্ঠানের দৌড়ঝাপ ছিলো সম্ভাব্য সেবাদাতা হিসেবে। উন্নত প্রযুক্তির জিপিএস এবংও জিপিআরএস সুবিধাসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি প্রায় বিনামূল্যে প্রদান করে দীর্ঘ মেয়াদি নানা চুক্তির প্রস্তাবনা ছিলো তাদের পক্ষ থেকে। জিপিআরএস/জিপিএস প্রযুক্তি পণ্য আমদানি করতে লাইসেন্সের জন্য বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)তেও তাদের যোগাযোগ-চেষ্টা ছিলো বলে চ্যানেল আই অনলাইনের তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে।

টেলিকম সেক্টরের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করায় আকারে গড়নে বেশ ‘সম্মানজনক’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আই ব্যাকস কাজ করেছে টেলিনর-ভোডাফোনসহ বেশ কিছু টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাথে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইউএনডিপির সাথেও রয়েছে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন