বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের জমি দখল এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনে সরকারের সাংসদ-মন্ত্রীদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী। এতে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সাংসদ দবিরুল ইসলাম, তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলামসহ তাঁর সঙ্গী-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘জোরপূর্বক ভূমিদখল, সহিংস হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। পুলিশ এসব বিষয় জানলেও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো নির্যাতনকারী গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও বিস্মিত করেছে। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের একের পর এক এ ধরনের ঘটনা এবং তাতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা দেখে আমরা হতবাক হচ্ছি।’
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সাংসদ দবিরুল ইসলাম তাঁর সংসদীয় আসনের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের রনবাগ নামক স্থানে রনবাগ ইসলামী টি এস্টেট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি চা-বাগান গড়ে তুলেছেন। ১০৬ একর আয়তনের ওই বাগানের মাঝখানে অকুল চন্দ্র সিংয়ের ২১ বিঘা জমি, ভাকারাম সিং ও জনক চন্দ্র সিংয়ের ২৭ বিঘা জমি, থোনরাম সিংয়ের ২৪ বিঘা, ক্ষুদনলালের ২৪ বিঘা চা-বাগানসহ ১০টি হিন্দু পরিবারের চা-বাগান ও আবাদি জমি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে অকুল চন্দ্র সিংয়ের এক বিঘা জমি অন্য সংখ্যালঘুদের জমিতে যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। করিডোরের মতো এই এক বিঘা জমি দখল হয়ে গেলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁদের নিজ জমিতে যাওয়ার আর কোনো পথ পাবেন না। কারণ, তাঁদের জমি ও বাগানের চারপাশ ঘিরে আছে সাংসদের চা-বাগান। অকুল চন্দ্রের এই এক বিঘাসহ বাগানের জমি দখল করতে পারলে সংখ্যালঘু ১০ পরিবারের সব জমি কবজা করা সহজ হবে সাংসদের জন্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংসদের মদদে তাঁর ছেলে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে চা-বাগানের ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমি সাংসদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করতে চাইছেন। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের হুমকি দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সর্বশেষ তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
লিখিত বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংখ্যালঘুদের জমিদখল ও নির্যাতনে মন্ত্রী-সাংসদদের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনাতে সাংসদ দবিরুল ইসলাম সরাসরি জড়িত। এ ছাড়া ফরিদপুরে এ ধরনের একটি ঘটনায় একজন মন্ত্রীর নামও এসেছে।
একই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, পিরোজপুরের সাংসদ এ কে এম এ আউয়ালও একইভাবে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছেন। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ক্ষত্রিয় পরিবারের ৫৫টি পরিবারের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন হচ্ছে। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সহসভাপতি তবারক হোসেইন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জিতেন্দ্র চন্দ্র সিংহ, ভাকারাম সিং ও অকুল চন্দ্র সিংও বক্তব্য দেন।
পুরনো সংবাদ :


