পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এবার বাংলাদেশে হতে যাওয়া একটি সম্মেলনে অংশ নিতে আসছেন না পাকিস্তানের মন্ত্রী। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধিরও অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান যদিও বলছে, বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না।
সার্কের আওতায় পয়নিষ্কাশন বিষয়ক ‘সাউথ এশিয়ান কনফারেন্স অন স্যানিটেশন’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের ওই সম্মেলন আগামী সোমবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এবং দেশটির এক কূটনীতিবিদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের টানাপড়েন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
প্রতি দুই বছর অন্দর সার্কভুক্ত দেশগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সেখানে সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ‘দক্ষিণ এশিয়ার চ্যালেঞ্জ’ স্যানিটেশন নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেন। ‘বেটার স্যানিটেশন, বেটার লাইফ’ স্লোগান নিয়ে এবারের সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলন শেষে গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে ‘ঢাকা ঘোষণা’।
ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের মুখপাত্র আমব্রিন জানান, বাংলাদেশে হতে যাওয়া সম্মেলনের জন্য ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের অনুমোদন দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। ওই দলে সব প্রদেশের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল। তবে তাদের কারো ভিসা ইস্যু করা হয়নি। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন ১০ দিন তাদের পাসপোর্ট রেখেছিল। সুতরাং, ইসলামাবাদ থেকে কোনো প্রতিনিধি আসছেন না।
তবে আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের ফোকাল পারসন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খায়রুল ইসলাম বলেন, ঢাকার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইসলামাবাদ প্রাথমিকভাবে ৬০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের তালিকা পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে ওদের এই বিষয়ক একজন মন্ত্রীর নামও ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের সচিব (এলজিআরডি) ওই সব আমন্ত্রণপত্রে সই করেছিলেন। পাকিস্তান বারবার প্রতিনিধি তালিকা পাল্টানোর কারণে তারা যথাসময়ে ভিসার আবেদন করতে পারেননি।” বলেন, “পাকিস্তান এখন তাদের মন্ত্রীকেও পাঠাচ্ছে না। মন্ত্রী পর্যায়ের এই সম্মেলনে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”


