প্রি-পেইড মোবাইল ফোনে দিনে ১ হাজারের বেশি টাকা রিচার্জ করা যাবে না। মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কয়েক দফা বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হবে। বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মূলত অপারেটরদের আপত্তির মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে দিনে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করার নিয়ম ছিল। পরে বিটিআরসি তা কমিয়ে ৫০০ টাকা করে। এতে প্রথমেই আপত্তি জানান অপারেটররা। তারা বলেন, অনেক প্যাকেজ রয়েছে ৫০০ টাকা মূল্যের বেশি। গ্রাহকরা সেসব প্যাকেজ ব্যবহার করেন।
৫০০ টাকার বাধ্যবাধকতা থাকলে ভয়েস কল ও মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে। এতে অপারেটররা যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি গ্রাহকরাও বিড়ম্বনার শিকার হবেন। এসব যুক্তি দেখিয়ে অপারেটররা রিচার্জের সীমা ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি। প্রতিদিন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা রিচার্জ করেন প্রায় ৬০ কোটি টাকা। মাসে এর পরিমাণ ১৮০০ কোটি টাকা। বছরে এর পরিমাণ ২১ হাজার ৯০০।
দেশের প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক এ পরিমাণ রিচার্জ করেন। দেশের ৫টি মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহকরা এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হচ্ছে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেল, রবি ও সিটিসেল। ৫ অপারেটরদের ফ্লেক্সিলোড বা রিচার্জ করতে ব্যবহার করা হয় মাহিন্দ্রা কমভিভার প্ল্যাটফরম। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ হাসনাইন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিদিন কেউ ১০০ টাকা কেউ ২০০ টাকা আবার কেউ ১০ টাকাও রিচার্জ করেন। টাকার হিসাবটি থাকে মোবাইল অপারেটরদের কাছে। তাই গড়ে হিসাব করলে প্রায় ৬০ কোটি দাঁড়ায়। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক এর বাইরে। তাদের রিচার্জের জন্য ব্যবহার করা হয় হুয়াওয়ের প্ল্যাটফরম। প্রি-পেইড সংযোগে দিনে ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জ করা যাবে না- এমন নির্দেশনা দিয়ে গত ২৯শে ডিসেম্বর মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয় বিটিআরসি।
এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, অপারেটররা গ্রাহকদের অসুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবের বিষয়টি বিবেচনাধীন। শিগগিরই এ ব্যাপারে ফের নির্দেশনা দেবে বিটিআরসি। অবৈধ ভিওআইপি নিয়ন্ত্রণে ওই রিচার্জ সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। ওই নির্দেশনায়, প্রি-পেইড গ্রাহকরা মাসে ১ হাজার টাকা ব্যালেন্স ট্রান্সফার এবং দিনে ৩০০ টাকার বেশি ট্রান্সফার করতে পারবেন না বলে জানানো হয়।
পোস্ট পেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না বলেও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়। বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়, একজন প্রি-পেইড গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার ব্যালেন্স রাখতে পারবেন। আর এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা রিচার্জ করতে পারবেন।
ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, একটি প্রি-পেইড সংযোগ থেকে মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যাবে। আর এক দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ট্রান্সফার করা যাবে। এত দিন একদিনে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যেত। এর আগে ২০০৮ সালে প্রি-পেইড রিচার্জের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছিল বিটিআরসি।
ওই নির্দেশনায় একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা রিচার্জ করার নিয়ম থাকলেও প্রতিদিনের রিচার্জ সীমা নির্ধারণ করা ছিল না। এদিকে গ্রাহকদের ৯৮ শতাংশই প্রি-পেইড গ্রাহক বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, অবৈধ ভিওআইপি কমানোর উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবৈধ ভিওআইপির কাজে যেসব সিম ব্যবহার হয় সেগুলোতে যাতে ইচ্ছেমতো রিচার্জ না করা যায়, সে কারণেই সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয়।
বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে চালু থাকা মোট সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ ব্যবহারকারীই প্রি-পেইড সংযোগ ব্যবহার করেন।


