বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অসুস্থ এরশাদের যত্ন নেওয়ার কেউ নেই

Ershad0rrপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এজন্য তিনি গত চারদিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে মেঘনায় ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন অনেকটা ভাল। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। মেঘনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানের চিকিৎসক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। নার্সরাও সেবা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, সর্দি কাশি ছাড়াও তার শ্বাসকষ্ট ও নাক বন্ধ হয়ে আসছিল। এই কারণে তার স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হয়। এরশাদের অসুখ হলে তার পাশে আপনজনদের কেউ নেই থাকার । এজন্য তিনি বাসায় থাকার চেয়ে হাসপাতালে সেবা ও চিকিৎসা নিতে স্বস্তিবোধ করেন।

এরশাদের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, এরশাদ শনিবার চিকিৎসা শেষে দুপুর ১২টায় প্রেসিডেন্ট পার্কে ফিরে যান। তার আপনজন বলতে পরিবারের তেমন কেউ কয়েক বছর ধরে তার সঙ্গে থাকছেন না। এই কারণে তাকে দেখা শোনা করা ও যতœ নেওয়ার জন্য তেমন কেউ নেই। বাসায় তার ব্যক্তিগত সহকারি যারা আছেন তারাই দেখাশুনা করেন। কিন্তু অসুখ হলে সেটা পর্যাপ্ত মনে না হওয়ায় অল্প অসুখ বিসুখ হলেও সিএমএইচ এ ভর্তি হন। সেখানে গেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন ও যথেষ্ট সেবা পাবেন মনে করেই সেখানে যান। এবারও তার তেমন গুরুতর সমস্যা না হলেও এই কারণে হাসাপাতালে ভর্তি হন।

সূত্র জানায়, বেগম রওশন এরশাদ তার স্ত্রী। কিন্তু তারা থাকেন আলাদা। রওশন থাকেন তার নিজের বাসায়। বিদিশার সঙ্গে বিয়ের পর বিদিশা সঙ্গে থাকতেন। এরপর তার সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর কেবল ছেলে এরিখের সুবাদে দুই জনের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। এরিখকে নিজেদের কাছে কে, কখন, কয় দিনের জন্য রাখবেন সেই জন্য তাদের মধ্যে মাঝে মধ্যে কথা হয়। বিদিশা থাকেন তার ফ্ল্যাটে। বর্তমান স্ত্রী রওশন এরশাদ ও সাবেক স্ত্রী বিদিশা কেউ তাকে দেখতে যাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদিশা বর্তমানে বাগেরহাটে রয়েছেন। তার সন্তানরা লন্ডন থেকে এক বছর পর বাংলাদেশে আসায় তাদেরকে নিয়ে বিদিশার বাবাকে দেখতে বাগেরহাটে যান। সেখানে তিনি থাকলেও তার মনটা পড়ে রয়েছে ঢাকায়। কারন ঢাকায় এরশাদের কাছে এরিখ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে বিদিশা এরিখের সঙ্গে কথা বলেন। এরিখ তখন বাবার পাশে সিএমএইচ এ । এরিখের সঙ্গে কথা বলে তার খবর নেওয়া ছাড়াও এরশাদের খবর নেন।

এরশাদের ঘনিষ্ট সূত্র আরো জানায়, এরিখ তার বাবার কাছে থাকছে। না থাকলে তার বাবার তেমনভাবে যতœ নেয়া হয় না।
জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক সচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান এখন ভাল আছেন। তিনি শনিবার দুপুরে বাসায় গেছেন। এই কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলেন। চিকিৎসা শেষে এখন অনেক ভাল বোধ করছেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে আর কয়েকদিন লাগবে। মাঝখানে শোনা গিয়েছিল তিনি বাসায় ফিরে গেছেন, তিনি বলেন, না বাসায় যাননি।

শোনা যাচেছ, তার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অসুখও রয়েছে। যখনই তিনি পদত্যাগের কথা বলেন, এরপরই তাকে হাসাপাতালে আসতে হয় এই ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে এখানে রাজনৈতিক ব্যাপার নেই।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পেছনে এবার কোন রাজনৈতিক কারণ ছিল না। তার কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা লাগছিল। একটু শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পাশাপাশি তার নাক বন্ধ হয়ে আসছিল। নাক বন্ধ থাকাতো অনেক সমস্যা। এই কয়দিন ভীষন ভুগেছেন। এটা তার জন্য যন্ত্রণাদায়কও ছিলো। এখন ভাল। বাসায় আছেন। তিনি বলেন, আমিও কয়েকদিন আগে দশদিন ভুগেছি। এখন ভাল আছি। এই অসুখটা হলে কষ্টটা কেমন হয় সেটা আমি জানি।

আরও পড়ুন