তুচ্ছ ঘটনায় ব্রহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্র-ব্যবসায়ী-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মাসুদুর রহমান (২৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। নিহত মাসুদুর রহমান পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের ইলিয়াস আহম্মেদের ছেলে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি শহরে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে বিজিবি সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে শহরের টিএ রোড, হাসপাতাল রোড, কান্দিপাড়ার মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবরোধ করে রাখে মাদ্রাসাছাত্ররা। এসময় তারা মঠের গোড়া এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শহরে বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নজরুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার রাতে ব্রহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্র-ব্যবসায়ী-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হাতবোমার বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শতাধিক টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। শহরের টিএ রোড, মাদ্রাসা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শহরের প্রধান সড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। আতংক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। এ ঘটনায় দেশটিভির মাসুক হৃদয়, এসএ টিভির মনিরুজ্জামান পলাশ ও একুশে টিভির মীর শাহীন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে সদর মডেল থানার এএসপি তাপসরঞ্জন ঘোষ, ওসি (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন, কনস্টেবল রাজিব, মিজান, সামদানী আহত হন। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় কনস্টেবল রাজিবকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ওই দিন বিকালে শহরের রেলগেট এলাকায় অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রের সঙ্গে অটোচালকের বাদানুবাদ হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমের রনি আহমেদ দু’জনকে মিটমাট করিয়ে দিতে গেলে মাদ্রাসাছাত্রের সঙ্গে তারও বাদানুবাদ হয়। এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যা ৬টায় ৪০-৫০ জন জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র অতর্কিত জেলা পরিষদ মার্কেটে হামলা চালিয়ে বিজয় টেলিকমসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। এ সময় ব্যবসায়ী রনি আহমেদ, আমান, আলামিন, ইউসুফসহ বেশ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি মারধরে আহত হন। এলাকায় আতংক দেখা দেয়। খবর পেয়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে মাদ্রাসাছাত্রদের প্রতিরোধ করতে এলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।


