বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

র‌্যাব ধরল ফাঁসির আসামিকে, ছেড়ে দিল পুলিশ

0_1414র‌্যাবের কাছে তথ্য ছিল ফটিকছড়ির বীমা কর্মকর্তা নূর খালেক মাস্টার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনোয়ার আশরাফ কাতার থেকে চট্টগ্রাম আসছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামামাত্রই দেড় বছর পালিয়ে থাকা এ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় উচ্চবাচ্য করেননি আনোয়ার, বলেননি তিনি এ মামলার আসামি না। নূর খালেক মাস্টারের পরিবারও তাকে শনাক্ত করে। এরপর র‌্যাব তাকে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু একদিন পর সোমবার দুপুর ১টায় পুলিশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ আসামিকে ছেড়ে দেয়।

এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। শতভাগ সত্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিশ্রম করে গ্রেফতার করার পর ফাঁসির আসামিকে পুলিশের ছেড়ে দেয়ায় র‌্যাবও বিস্মিত। অভিযোগ উঠেছে, আনোয়ার আশরাফ চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার নিকটাত্মীয়। তাই উপরের তদবির তথা রাজনৈতিক চাপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক সাফায়েত জামিল ফাহিম সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘র‌্যাব-১-এর তথ্যের ভিত্তিতে কাতার ফেরত আনোয়ার আশরাফ ওরফে আনোয়ার চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। আমরা তাকে আটক করলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। অপরাধী যেভাবে নিজেকে সারেন্ডার করে ঠিক সেভাবেই হাতকড়া পরানোর পর তাদের গাড়িতে ওঠেন আনোয়ার। গ্রেফতার এড়াতে তিনি তার বোডিং পাস, বিমানের টিকিট ও পাসপোর্টে ভিন্নভিন্ন নাম-পরিচয় উপস্থাপনও করেন। তাছাড়া ভিকটিমের পরিবারও র‌্যাব অফিসে শনাক্ত করেছিলেন। এরপর আমরা রাতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন তাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে। তারা কিভাবে তার পরিচয়ে অমিল পেয়েছে সেটি আমি জানি না। আমাদের কাছে খবর রয়েছে, তিনি সরকারদলীয় অনেক বড় নেতার নিকটাত্মীয়। রোববার আমাদের কাছেও কয়েকজন নেতা তার জন্য ফোন করেছিলেন।’

ফটিকছড়ি থানার ওসি মফিজ উদ্দিন সন্ধ্যা ৭টায় বলেন, আনোয়ার আশরাফ কাতার নয়; দুবাইয়ে থাকেন বলেই তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। আনোয়ারকে হেফাজতে নেয়ার পর তারা বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান, এএসপি সার্কেল, ভিকটিমের স্ত্রী-মেয়েসহ সবার উপস্থিতিতে র‌্যাবের হাতে আটক এ ব্যক্তি যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সেই আসামি নয়, তা শতভাগ নিশ্চিত হয়েই আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি। কোনো অপরাধীকে ছেড়ে দেয়ার কোনো ইনটেনশন নেই, আবার একজন নিরপরাধ মানুষ জেলে যাক সেটি আমরা চাই না।’

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল ফটিকছড়ির কারবালা টিলা এলাকায় গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্সের ফটিকছড়ি ব্রাঞ্চের সিনিয়র অফিসার নূর খালেক মাস্টারকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, দুর্নীতির দায়ে আশরাফ হোসেন ও গোলাম মোস্তফা কালু নামের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মমিন উল্লাহ আনোয়ার আশরাফকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। খালাস দেন গোলাম মোস্তফা কালুকে।

আরও পড়ুন