বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘ছাত্রলীগ কর্মী’ থেকে ছাত্রদল সভাপতি!

1452674209‘ছাত্রলীগ কর্মী’ থেকে ছাত্রদল সভাপতি!‘ছাত্রলীগ কর্মী’ থেকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হতে চলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের ৩৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানা। এ কারণে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাবেক এ ছাত্রলীগ কর্মীকে প্রতিহত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ‘ছাত্রলীগ মুক্ত জাবি ছাত্রদল চাই’ এ দাবিতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ছাত্রদলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানাকে সভাপতি ও একই বিভাগের ৩৭ তম ব্যাচের মুরাদ হোসেন হীরাকে সাধারণ সম্পাদক করে শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়েছে ইতিহাস বিভাগের ৩৮ তম ব্যাচের আব্দুর রহিম সৈকতকে। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৩৯ তম ব্যাচের আশরাফুল ইসলামকে।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪০ তম ব্যাচের রাধেশ্যাম বিশ্বাসকে। খসড়া কমিটিটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে কমিটি অনুমোদনের আগেই শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষ বেড়ে চলেছে। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল রানাকে প্রতিহত করতে শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উঠে পড়ে লেগেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ‘একটি মহল ছাত্রদলকে অকার্যকর ও ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত। ছাত্রদলের স্বার্থে যে কোন মূল্যে এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রতিহত করা হবে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিহাস বিভাগের ৩৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। সে সময় হলের শিক্ষার্থীরা সোহেল রানাকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে শহীদ সালাম বরকত হল থেকে বের করে দেয়।

এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতা এমিলের আশ্রয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। ২০১০ সালের ৫ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সংঘর্ষে সোহেল রানা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের পক্ষে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের আঘাতে তিনি আহতও হন। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের পক্ষে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে সোহেল রানাসহ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ৭ নং আসামি ছিলেন সোহেল রানা।

পরবর্তীতে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সোহেল রানার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদ পান বিতর্কিত সোহেল রানা। এছাড়াও শাখা ছাত্রদলে পদ পাওয়ার পর সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুমার কুণ্ডুর সঙ্গে আঁতাত করে সোহেল রানার অনুসারী ছাত্রদলকর্মীরা শহীদ রফিক-জব্বার হলে দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান বলেন, ‘ওকে আমি ভালো করে চিনি। ও তো ছাত্রলীগের সঙ্গে ক্যাম্পাসে  ঘোরা ফেরা করে। সে ছাত্রদলের জন্য ডিজাস্টার। ওকে সভাপতি করা হলে ত্যাগী ছাত্রদল নেতাদের বঞ্চিত করা হবে।’ নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠনের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের পরমর্শ নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে ছাত্রদলের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সুযোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগগুলো আমাদের হাতে রয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কমিটি দেয়া হবে।’ এসব বিষয়ে জানতে সোহেল রানাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরবর্তীতে সোহেল রানা গ্রুপের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল জাকিরুল ইসলামকে সভাপতি ও আবু সাঈদ ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে জাবি শাখা ছাত্রদলের ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন