ফের বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালালেন ‘আসল বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। ‘দলীয় বিপ্লবের মহড়া’ দিতে গিয়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার মুখে পালিয়ে যান ‘আসল বিএনপি’ দাবিদারেরা।
আজ রোববার বিকেল পৌনে চারটার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ‘আসল বিএনপি’র কিছু নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে আসছিলেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল ‘দলীয় বিপ্লবের মহড়া’। মিছিলটি আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিপরীত দিক থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া করেন। ‘আসল বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা পালিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
‘আসল বিএনপি’র নেতা কামরুল হাসান অবশ্য ‘আসল বিএনপি’ বলতে নারাজ। তিনি নিজেকে বিএনপির পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা দাবি করে বলেন, নতুন কোনো সংগঠন বা দল করা হচ্ছে না। এটি বিএনপির পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে’ আজ তাঁদের নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে গিয়েছিলেন। পিকআপ ভ্যানে গান-কবিতা বাজছিল। সে পিকআপটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নয়াপল্টন যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, গত ২৬ নভেম্বর জনতার নিম্ন আদালত দুটি রায় দিয়েছিল। একটি হলো বিএনপির গঠনতন্ত্র স্থগিত, আরেকটি হলো নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনতার উচ্চ আদালত বসবে। সেখানে বিচারক হিসেবে থাকবেন বিএনপির গত ২০ বছরে যারা কাউন্সিলর ছিলেন তাঁরা। এটি নতুন কিছু নয়, বিএনপি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া।
এর আগে ২ জানুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘দখল’ করতে গিয়ে পিটুনি খেয়ে পালায় ‘আসল বিএনপি’। ওই দিনও কার্যালয়ে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
বছর খানেক আগে খালেদা জিয়াকে ‘বাদ দিয়ে’ নিজেকে ‘আসল বিএনপি’র নেতা দাবি করেন নাসিম, যাকে ‘সরকারের দালাল’ বলছেন বিএনপি নেতারা। সম্প্রতি নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিল নাসিমের সমর্থকরা।
রোববারও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘কর্মসূচি’র জন্য ওই কভার্ড ভ্যানে করে শব্দযন্ত্র নেওয়া হচ্ছিল।
কভার্ডভ্যানে থাকা সাউন্ড অপারেটর মো. টিপু বলেন, “বিকালে আসল বিএনপির নেতা কামরুল হাসান নাসিমের ৪০-৫০ জন সমর্থক নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার কথা ছিল।
“সেই অনুযায়ী আমরা শিল্পকলা একাডেমি থেকে এদিকে আসছিলাম। আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি আসার পর বিএনপি কার্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে একদল হামলা চালায়। তারা মারধর করে সবাইকে তাড়িয়ে দেয় এবং পরে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।” আগুনে গাড়িতে থাকা সাউন্ড বক্স এবং ‘আসল বিএনপি’র কাগজপত্র পুড়ে গেছে।


