নারায়ণগঞ্জে পাঁচ খুন রহস্য এখনও পারিবারিক দ্বন্দ্বের আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। নৃশংস এ খুনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো সমীকরণ মেলাতে পারছে না আইনশৃংখলা বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মূলত অর্থনৈতিক সংকট থেকে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত। এর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহ এ বিরোধকে তিক্ত করে তোলে। এরই জেরে হত্যাকাণ্ড।
তবে এ ক্লু এখনও অনুমান নির্ভর। এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তদন্তের প্রথম ধাপে সন্দেহভাজন হিসেবে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এর তিনজনের ফোনালাপের রেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ফোনালাপের রেকর্ড পাওয়া গেলেই খুনের রহস্য উন্মোচিত হবে।
আইনশৃংখলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রোববার বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে ছয়জনকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আশা করি, ২-১ দিনের মধ্যেই ঘটনার আদ্যোপান্ত প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’
এর মধ্যেই এক সূত্র দাবি করেছে, ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ ওরফে মারুফ এ খুনে জড়িত থাকার কথা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাও দিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, ‘তদন্তের স্বার্থে’ এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, গলা কেটে নয়। শ্বাসরোধ ও ভারি বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এদের ময়নাদতদন্ত হয়।
হত্যার শিকার তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম শফিক ফতুল্লা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে তিনি ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার ও শাহজাহান এবং তার ভাগিনা মাহফুজ ওরফে মারুফ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
নিঃশব্দে খুন : শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ সড়কের কয়েকটি গলি পার হলেই পাঁচ খুনের ঘটনাস্থল। সরু গলির ভেতরে পাঁচ তলা ভবনের নিচ তলায় লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটে। ভবনটি দুই ইউনিটের। মাঝ দিয়ে সিঁড়ি। ভবনের নিচ তলায় দুটি কক্ষে পাওয়া যায় লাশগুলো।
যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার উল্টো পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা টুঁ শব্দটিও পাননি। ভবনের উপরের তলাগুলোতে অন্তত ১০ পরিবারের বাস। তারাও কিছুই আঁচ করতে পারেননি। ভবনের বাসিন্দারা বলছেন, কোনো ধরনের চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়নি।
উল্টো পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া তৌহিদুর রহমান বলেন, তারা ১ জানুয়ারি এ ফ্ল্যাটে ওঠেন। ভবনের কোনো ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গেই তাদের পরিচয় নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই কার ফ্ল্যাটে কে যাচ্ছেন তারা তা বুঝতে পারেন না। তিনি বলেন, পাশের ফ্ল্যাটে পাঁচজন খুন হলেও ওই ফ্ল্যাট থেকে তারা কোনো শব্দ পাননি।
পুলিশ বলছে, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড অনেকটাই নিঃশব্দ খুন। খুনিরা অপেশাদার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা অনেকটাই পেশাদার স্টাইলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ফোন উদ্ধার হয়নি : হত্যার রহস্য উন্মোচনে মোবাইল ফোনকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধরা হয়ে থাকে। এ কারণে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেখানে মাত্র একটি ফোন পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, গৃহবধূ তাসলিমা, তার ভাই মোর্শেদুল ওরফে মোশারফ ও লামিয়া তিনজনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। সে হিসাবে অন্তত তিনটি ফোন পাওয়ার কথা। এমনকি সন্দেহের কেন্দ্রে থাকা লামিয়ার স্বামী শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন রোববার বলেন, মাত্র একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা গেছে। তবে সেটি কার তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া লামিয়ার স্বামী শরিফুল ইসলাম বলছেন, ‘আমার ফোন হারিয়ে গেছে।’ তার এমন বক্তব্য সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
ভয়েস রেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা : মোবাইল পাওয়া না গেলেও তাদের ফোন নম্বরগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তিনজনের ফোনের কললিস্ট গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত তিনজনের ফোনালাপ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ফোনালাপ প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে, তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারে এক বছর পর্যন্ত গ্রাহকের ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। গ্রামীণফোন ছাড়া অন্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে এক বছরের বেশি সময়েরও রেকর্ড পাওয়া যায়। তবে এ রেকর্ড পেতে হলে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহায়তার প্রয়োজন হয়। যেহেতু পাঁচ খুন মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাই পুলিশ সদর দফতরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ‘সাপোর্ট’ দেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভয়েস রেকর্ড পাওয়া গেলে হত্যা রহস্য উন্মোচন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
পরকীয়া নাকি ঋণ : হত্যাকাণ্ডের কারণ নিহত তাসলিমার ভাই মোশারফ ওরফে মোর্শেদুলের সঙ্গে শরিফুলের স্ত্রী লামিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক নাকি ঋণের অর্থ- বিষয়টিতে এখনও পরিষ্কার নয় পুলিশ। তবে পুলিশ ধারণা করছে, ১৫ লাখ টাকা ঋণে জর্জরিত পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। পাওনাদারদের হুমকির মধ্যে একরকম আত্মগোপনে ছিল পরিবারটি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা টাকা পান, তারা নাকি ওই পরিবারকে (নিহতদের) তাড়া করতেন। নারায়ণগঞ্জে আসার আগে তারা দু-তিনবার বাসা পারবর্তন করেন। এর আগে তারা ঢাকায় কলাবাগানে থাকতেন। ওখান থেকে নারায়ণগঞ্জের আরেক জায়গায় আসেন। সেখান থেকে বাবুরাইলের এ বাসায় ওঠেন।’
তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, তার শ্যালক নিহত মোর্শেদ কলাবাগান এলাকায় ব্যবসায়িক কাজের জন্য নাজমা আক্তার ও শাহজাহানের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন। এ টাকার জন্য তারা নানা ধরনের হুমকি দিতেন। এছাড়া দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও তারা কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ভাগিনা মাহফুজ ওরফে মারুফ তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিহত লামিয়াকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিচার-সালিশও হয়।
এক সূত্র দাবি করেছে, মাহফুজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তাছাড়া সব তথ্যই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাসলিমার মা মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘কেন অগরে মারল কইতে পারতাছি না। তবে ওরা এক মাস আগে ঢাকার কিছু লোকের হুমকি পাইয়া নারায়ণগঞ্জে চইলা আসে।’ তিনি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার ছেলে মোর্শেদুল ওরফে মোশারফের সঙ্গে তার সবশেষ কথা হয়। এরপর শনিবার সারা দিন মেয়ে ও জামাইয়ের ফোন বন্ধ ছিল। একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি।
অসংলগ্ন কথা শরিফুলের : মামলাটি এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা থেকে জেলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে লামিয়ার স্বামী শরিফুল ইসলাম শরিফ ও ভাগিনা মাহফুজ ওরফে মারুফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, শরিফুল ও মারুফ দু’জনই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। তারা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। ঢাকা থেকে আসা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে অন্তত ছয়জন অংশ নিয়েছে। দুটি ভাগে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। একটি কক্ষে লামিয়া ও মোর্শেদুল ওরফে মোশারফ এবং অন্য কক্ষে তাসলিমা ও তার দু’শিশু সন্তানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পড়ে ছিল। হত্যার আগে তাদের চেতনাহীন করা হয়েছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসানউদ্দিন চৌধুরী। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘হত্যাকারীরা একাধিক ছিল। তবে তারা পেশাদার ছিল না।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরের ভেতর থেকে এমন কিছু আলামত পেয়েছি যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, লাশ উদ্ধারের ৬-৭ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’
শ্বাসরোধ ও ভারি বস্তুর আঘাতে হত্যা : ৫ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা হলেন- ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. মফিজ উদ্দিন ও ডা. তোফাজ্জল হোসেন। ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গলা কেটে নয়, মূলত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে সবার মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মাথার বিভিন্ন স্থানে ভোঁতা ধাতব বস্তুর এলোপাতাড়ি আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও প্রতিটি লাশের গলাতেই কালচে দাগ দেখা গেছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে মোরশেদুল ইসলামকে প্রথমে শ্বাসরোধ এবং পরে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। ৫ বছরের শিশু সুমাইয়ার মাথায় বেশ জোরে আঘাত করা হয়। এ কারণে তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। তিনি আরও বলেন, খুনিরা কেউই পেশাদার নয়। আঘাতের চিহ্ন দেখেই তা বোঝা যায়।’
রোববার খুনের স্থান পরিদর্শন করেন র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টায় বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। সাক্ষী গোপন রাখতে শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে সিআইডিসহ র্যাব, পুলিশ ও কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই খুব শিগগিরই খুনিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’
মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঘরে রান্না করা কিছু খাবার ছিল। যেগুলোতে চেতনানাশক কিছু মেশানো ছিল কিনা তা পরীক্ষা করতে সেগুলো আলামত হিসেবে আমরা ল্যাবে পাঠিয়েছি।’ পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে ছিলেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ড. মহিদ উদ্দিন ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া।
ত্রিশালে মাতম : ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, হত্যার শিকার তাসলিমা আক্তার ও মোরশেদুল আলম ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের পাটুলি গ্রামের আবদুল বারেকের সন্তান। তার ও অন্য স্বজনদের কান্নায় বাড়ির পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। আবদুল বারেক জানান, টেলিভিশনের খবরে খুনের ঘটনা জানতে পারি। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ত্রিশাল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
নান্দাইলে দাফনের প্রস্তুতি : নান্দাইল প্রতিনিধি জানান, তাসলিমার স্বামী শফিকুর রহমান শফিকের বাড়ি নান্দাইলের বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারী গ্রামে। নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, লাশ রাতে এলাকায় এসে পৌঁছবে। তাসলিমার মা মোরশোদা বেগম মোবাইল ফোনে বিকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, ৫ লাশ নান্দাইলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। চরভেলামারী গ্রাম থেকে নিহতের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম সেলফোনে জানান, তারা লাশ দাফন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেতাগৈর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন জানান, সোমবার সকালে জানাজার পর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।


