বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করল সাব-এডিটরস কাউন্সিল!

Azad-DSECরাজধানীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদনা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের ডেস্ক কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।

সোমবার ১৮ জানুয়ারি সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৪(গ) ধারা অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির অনিককে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংগঠনের দফতর সম্পাদক আবু কাউসার খোকন প্রেরীত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে ।

এদিকে এই বিজ্ঞপ্তির পর আজাদ তার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাকে তথাকথিত বহিস্কার করে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) গঠনতন্ত্র বিরোধী। এ ব্যাপারে আগামীকাল মঙ্গলবার বিস্তারিত বিবৃতি প্রদান করবো।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রেরীত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে তা হলো:
১. সংগঠনের ইফতার মাহফিল, অভিষেক অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ফ্যামিলি ডে- উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ এনে তা সংগঠনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেননি।

এমনকি মোট কত অর্থ তিনি এনেছেন তাও কার্যনিবাহী কমিটিকে অবহিত করেননি। যদিও অনুষ্ঠানগুলোর আগে তিনি বিভিন্ন অতিথির কাছ থেকে ৬/৭ লাখ টাকা আনতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

২.তার সন্দেহজনক আচরণ ও অস্বচ্ছ লেনদেনের বিষয়টি নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নজরে আসলে সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমা কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি ক্রয় কমিটি গঠন করেন।

এতে তাকে না রাখায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং তাকে ছাড়া সংগঠন কিভাবে চলে তা দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেন এবং অন্য নেতাদের নামে অপপ্রচার অব্যাহত রাখেন।

৩. ফ্যামিলি ডে- অনুষ্ঠান হতে দেবেন না বলেও চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। কিন্তু কমিটির অন্য সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠান সাফল্যের সঙ্গে করা সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠানের ৩ দিন আগেও তিনি সদস্যদের বলেছেন ফ্যামিলি ডে হচ্ছে না!

৪. অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়েও তিনি নানা অপপ্রচার চালিয়ে গেছেন। কোনও কাজে সহায়তা করেননি। সাধারণ সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

৫. ফ্যামিলি ডে- অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরষ্কার তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির কাউকে না জানিয়ে নিজেই স্পন্সরের কার্যালয় থেকে বিতরণ করেছেন এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।

৬. জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরির সঙ্গে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাক্ষাতকালে সভাপতির জন্য নির্ধারিত আসনে সুকৌশলে এবং অনেকটা জোর করে তিনি নিজেই বসেন, যা দৃষ্টিকটু এবং সমালোচনার সৃষ্টি করে। এমনকি স্পিকারকে দেয়া স্মারকপত্রে সভাপতির সাক্ষরের জায়গা না রেখে কৌশলে কেবল তার নিজের সাক্ষর দেয়ার জায়গা রাখা হয়েছে।

৭. স্পিকারের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমার নেতৃত্বে হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তিনি সাক্ষাতের একটি ছবি পোস্ট করে মন্তব্যে দাবি করেন, তার নেতৃত্বে ওই সাক্ষাৎ হয়েছে।

৮. জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তার একার সিদ্ধান্তে ব্যানারে যেসব অতিথির নাম লেখা হয়েছে তাতে যথাযথ প্রটোকল রক্ষা করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন অতিথি প্রকাশ্যে সংগঠনের সমালোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ব্যানারে তার নাম সঞ্চালক হিসেবে লিখেছেন, যা সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করে।

৯. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণীকায় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক কাঠামো ভঙ্গ করে নিজের ছবি ফলাও করে প্রকাশ করেছেন।

১০. কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সংগঠনের সহ-সভাপতি কে এম শহীদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ইমন, নির্বাহী সদস্য জাওহার ইকবাল খান ও নাসির উদ্দীন বুলবুলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অসদাচরণ ও তাদের শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা করেন। তখন সভাপতিসহ সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে তিনি ক্ষান্ত হন।

১১. সংগঠনের সভাপতির পদকে অবজ্ঞা এবং মর্যাদাহানির অপচেষ্টা করে তিনি দাবি করেন, এই সংগঠনে সাধারণ সম্পাদকই সর্বময় ক্ষমতার মালিক।

সভাপতি আলংকারিক পদ মাত্র। কিন্তু তার এই দাবি গঠনতন্ত্র সম্মত নয়। সভাপতির অনুমোদন ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের কোনও কাজ করার এখতিয়ার নেই।

১২. কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে যে সব মতামত উঠে আসে, তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামাফিক কাজ করেন। পরে কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হয় তিনি উদ্ধত্য আচরণ করেন।

আরও পড়ুন