বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাব্বী ফৌজদারী অপরাধ করেছিল: আইজিপি

rabbi_337121244বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্যাতিতকেই দুষেছেন  পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। সেই রাতে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় রাব্বী দেহ তল্লাশিতে ‘বাধা দিয়েছিলেন’ দাবি করে পুলিশ মহাপরিদর্শক  বলেছেন,  “রাব্বী সাহেব যেহেতু পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন, সেটি ফৌজদারি অপরাধের শামিল।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজারে ঢাকা জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন আইজিপি।

‘একটা-দুইটা ভুলের জন্য’ পুরো পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা না করার আহ্বান জানিয়ে শহীদুল  হক  বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নয়। অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের অপরাধের চেয়েও বেশি শাস্তি পেয়ে থাকে। তাই পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালনকালে সহায়তা করুন।”

পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল বলেন, ঘটনার রাতে গোলাম রাব্বী চেকপোস্ট অতিক্রম করার পর তার দেহ তল্লাশিতে বাধা দেন বলে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে। শুধু আইডি কার্ড দেখালে তো এটি নিশ্চিত হওয়া যায় না যে, ওই ব্যক্তিই তিনি। তবে তাকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুই ঘণ্টা আটকে না রেখে থানায় নিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের কাজটি করতে পারতেন।”

বিষয়টি ‘ফৌজদারী অপরাধের শামিল’ মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, “যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালত যে আদেশ দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে গত ৯ জানুয়ারি রাতে জেনেভা ক্যাম্পের কাছে আটক করে পুলিশ। রাব্বীর অভিযোগ, তাকে মাদকসেবী বানানোর ভয় দেখিয়ে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে গাড়িতে নিয়ে ঘোরার সময় তার চোখের সামনে একই ধরনের আরও ঘটনা ঘটায় পুলিশ। সে সময় রাব্বীকে মারধরও করা হয়। ডান হাতের কনুই ও বাঁ পায়ে ক্ষত নিয়ে তিনি এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজন-বন্ধুদের হস্তক্ষেপে ওই রাতে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া রাব্বী পরদিন এসআই মাসুদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৬ জানুয়ারি তিনি প্রতিবেদন দিলে তা পাঠানো হয় ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে।

রাব্বীর ঘটনায় পুলিশের সমালোচনার মধ্যেই ১৫ জানুয়ারি ভোরে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই আরশাদ হোসেন আকাশসহ কয়েকজন সাধারণ পোশাকের পুলিশ সদস্য মীরহাজীরবাগ এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশকে মারধর করে বলে পরিবার ও করপোরেশনের কর্মীদের অভিযোগ।

এ দুটি ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এসব ঘটনার জন্য রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেন, রাব্বীর ঘটনায় এসআই মাসুদ শিকদারের আচরণ ‘পুলিশসুলভ’ ছিল না।

তবে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলছেন, এতো বেশি সমালোচনা করলে পুরো বাহিনীর ‘মনোবল ভেঙে যাবে’। গণতন্ত্র রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর অসীম ত্যাগ রয়েছে। আমরা জনগণের জন্য নিরাপত্তা দিচ্ছি। আমাদের সদস্য সংখ্যা সীমিত। এক হাজার লোকের জন্য এখনও একজন পুলিশ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেন।”

কমিউনিটি পুলিশিং-এর মাধ্যমে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার জানিয়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ‘দূরত্ব’ কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ’ এর উদ্বোধন করেন আইজিপি। পরে ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ স্লোগান নিয়ে ঘোড়ার গাড়ির একটি শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকা ঘুরে ট্রাক স্ট্যান্ডে সমাবেশে মিলিত হয় ওই শোভাযাত্রা।

সমাবেশ শেষে সন্ধ্যার পর মাদকবিরোধী কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী  মমতাজ বেগম।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন