ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার একদিন পর ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ উন্নয়নের সবক্ষেত্রে অংশীদার হিসেবে এ দেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ব্রিটিশ সরকার।
বুধবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বাংলাদেশে নবনিযুক্ত এ হাইকমিশনার। সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন।
এক প্রশ্নের জবাবে অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘কিছু দিন আগ পর্যন্ত বাংলদেশে গণতন্ত্র নিয়ে কিছুটা সঙ্কট থাকলেও সবশেষ স্থানীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আশাবাদী করে তুলেছে।’
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বুধবার ঢাকায় পৌঁছান। সদ্য বিদায়ী ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
নবনিযুক্ত এই ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এবং আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে যুক্তরাজ্য অবদান রাখতে পারে।’
লিখিত বক্তব্যে অ্যালিসন ব্লেক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্ধু ও বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক দাতা হিসেবে যুক্তরাজ্য এ দেশের ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ দেশের মানুষ ব্রিটিশ সমাজে অপরিমেয় অবদান রেখেছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের উন্নয়ন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে চলমান ঐতিহ্যপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে দু’দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করবেন।
ব্রিটেনের নতুন দূত বলেন, সম্প্রতি পুলিশের হাতে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তা ব্রিটেন গভীরভাবে নজরে রাখছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তারা যদি উল্টো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বসে, তবে এর প্রতিক্রিয়া দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
ঢাকায় ব্রিটেনের প্রথম নারী হাইকমিশনার বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাকে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তা বেশ ভালো করেই তাদের জানা আছে। তিনি জানান, এসব ঘটনার জন্য ব্রিটেন এ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রকল্প সহায়তা করে না।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, অতীতের কিছু নির্বাচনের জন্য আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। কারণ সব নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সব পর্যায়ে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আমরা বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাব। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সব স্তরের নাগরিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।’


