বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সম্পাদককে বহিষ্কারের পর মুখ খুললেন সোমা

Shoma-dsecনাছিমা আক্তার সোমা।

আপনারা এ ব্যাপারে আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন যে, আমরা সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আবুল কালাম আজাদকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করিনি। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে গঠনতান্ত্রিক সব নীতিমালা মানা হয়েছে। সভাপতি নয়, নির্বাহী কমিটির সবার সম্মতিক্রমে এই শাস্তি দেয়া হয়।

এখানে ‘ভিত্তিহীন, বেআইনি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত আক্রশের বহিঃপ্রকাশ’ ঘটেনি। কোন ষড়যন্ত্রও হয়নি।

বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগ নিস্পত্তির জন্য নির্বাহী কমিটির সদস্যরা অনেকবার চেষ্টা করেও সফল হননি।

তাকে দিয়ে সভা আহবান করানো সম্ভব হয়নি। সভাপতি বারংবার তাকে সভা ডাকতে বললেও তিনি তাতে কান দেননি। সভার প্রতি তার রয়েছে তীব্র অনিহা!

তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, সভাপতি বললেই সভা ডাকতে হবে নাকি? সভাপতির কথায় কি সংগঠন চলবে? অথচ গঠনতন্ত্র কিন্তু সেটাই বলছে। সভাপতির পরামর্শ ছাড়া কিছু করার সুযোগ নেই।

অনেক বলার পরও সংগঠনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যখন তিনি সভা ডাকেননি, তখন গঠনতন্ত্রের ৭(ঘ) ধারা অনুযায়ী ৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের লিখিত দাবিতে সভাপতি ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সভা আহবান করেন।

সুতরাং সভাটি ছিল বৈধ। সেই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে অনুসরণ করা হয়েছে গঠনতন্ত্রের ৪(গ)ধারা।

সেখানে স্পস্ট বলা আছে-‘… গঠনতন্ত্র বিরোধী কোন কাজ করলে যে কোন সদস্যর বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে কার্যনির্বাহী কমিটি যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।…’।

এই ধারা ব্যবহার করে বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক আজাদ কয়েক বছর আগে সংগঠনের সিনিয়র সদস্য খায়রুল আলমকে আজীবন এবং শামসুল আলম সেতুকে ৩ বছরের জন্য সংগঠন থেকে বহিস্কার করেছিলেন। যদিও গঠনতন্ত্রে ওই সময় এই ধারাটি ছিলনা ।

তাদের বহিস্কারাদেশকে বৈধতা দিতে ৪ ( গ ) ধারাটি গঠণতন্ত্রে যোগ করা হয় জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় । যদিও এর আগে অক্টোবরে তাদের বহিস্কার করা হয়। তা ওইসময় পাশ হয়নি ।

সংগঠনের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা আনতে ৫ সদস্যের ক্রয় কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বৈধ। নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনার ভিত্তিতে তা গঠিত হয়। রেজ্যুলেশন খাতায় তা উল্লেখ আছে।

ক্রয় কমিটিতে তাকে না রাখায় তার মাথায় ‘আকাশ ভেঙে পড়ে’। টুপাইস ইনকামের স্বপ্ন চুড়মার হয়ে যায়! স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতকালে সভাপতির জন্য রক্ষিত আসনে তিনি চাতুরি করেই বসেছেন। কমিটির সবাই বলা সত্ত্বেও তিনি আসন ছাড়েননি।

নির্বাহী কমিটির সভায় এ ব্যাপারে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হলে প্রথমে তিনি উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং অবস্থা বেগতিক দেখে প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সবার কাছে কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এমন হবেনা বলে অঙ্গিকার করেন।

কিন্তু চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী! বহিস্কৃত হয়েও তিনি গণমাধ্যমে সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে বিবৃতি দিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা একে এক ধরেনের অপরাধ বলে বর্ণনা করেছেন। নির্বাহী সভায সিনিয়র ৪ সদস্যের গায়ে হাত তুলতে উদ্দত হন। এটাও শৃঙ্খলাভঙ্গ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেয়ার আগেই তিনি কেক কাটার কথা বলে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বিষয়টি সাংবাদিক নেতা ইকবাল ভাইয়ের নজরে এলে তিনি কেক কাটার আগে সভাপতির বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেন। এখন এ পর্যন্তই। আরো তথ্য পরের খন্ডে!

লেখক :  সভাপতি, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল ( ডিএসইসি )

আরও পড়ুন