কলকাতা: গণতন্ত্রে বহুত্ববাদের পক্ষে ফের সওয়াল করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনের স্বাধীকারের প্রসঙ্গেও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকারি সাহায্য অবশ্যই প্রয়োজন, তবে নিয়ন্ত্রণ নয়। শিক্ষাঙ্গনকে তার নিজের ভাবনাতেই বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় বুধবার তাঁকে ডি লিট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করল। ছিলেন উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া, সাংসদ সুগত বসু, বিভিন্ন বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান, প্রাক্তন ও এখনকার পড়ুয়ারা।
ডি লিট উপাধি প্রদান উপলক্ষে বিশেষ সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছিল ডিরোজিও হলে। ৬৩ বছর আগে অমর্ত্য সেন এই কলেজেরই পড়ুয়া ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই, এতদিন পর সেই কলেজই বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়ে তাঁকে ডি লিট দিল, আপ্লুত বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ।
ভাষণের শুরুতেই ডিরোজিওর ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিলেন, ভাষণের মাঝেই ঘুরেফিরে এল ডিরোজিওর অবদানের কথা। ২০০ বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে, বললেন অমর্ত্য সেন। হিংসা, ক্ষুধা, অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এই মহান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কী ভূমিকা নিতে পারে, তা ভাবতে হবে। শুধু শিক্ষার অগ্রসর ও মানোন্নয়ন নিয়েই নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়কে ভূমিকা নিতে হবে, স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্মানিত হয়ে তিনি আপ্লুত, ভাষণের শুরুতেই বললেন কলেজে আসতে পেরে ভাল লাগছে। ১৯৫১ সালে আমি শান্তিনিকেতন থেকে এখানে পড়তে এসেছিলাম। কলেজের মূল ভবনের লম্বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার কথা মনে পড়ছে। কফিহাউসে আড্ডা দিতে যেতাম।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ প্রয়াত তপন রায়চৌধুরির কথা বলতে গিয়ে বলেন, একবার তিনি বলেছিলেন, কলেজে পড়িয়ে যা শিখি, তার থেকে বেশি জানতে পারি কফিহাউসে আড্ডা দিতে এসে। বিভিন্ন টুকরো স্মৃতি ভিড় করে আসছিল স্যর অমর্ত্য সেনের মনে। বিজ্ঞান, অঙ্ক, অর্থনীতি, সাহিত্য, ইতিহাস যে কোনও বিষয় চর্চার ক্ষেত্রে উৎকর্ষতাই জরুরি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক বিদ্বানকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেছে।
অমর্ত্য সেন স্মরণ করেন সত্যেন বসু, জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের কথা। মূল্যবোধের শিক্ষাও যে জরুরি এ কথাও তিনি বারেবারে বলেছেন।
অধ্যাপক ভবতোষ দত্তের বাগ্মিতার কথাপ্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, ওঁর মতো বাগ্মী আর দেখিনি। ইতিহাসচর্চায় বিনয় চৌধুরি, বরুণ দে–র কথাও স্মরণ করেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন।


