চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার। ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন তিনি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০১৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন নিজামউদ্দিন আহমেদ। এই দায়িত্বে তিনি অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিবের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
সরকার সম্প্রতি নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের পদকে সেনাবাহিনীর জেনারেল র্যাংকের সমান মর্যাদায় উন্নীত করায় অবসরে যাওয়ার মাত্র দশ দিন আগে ‘ভাইস অ্যাডমিরাল’ থেকে ‘অ্যাডমিরাল’ হন ফরিদ হাবিব।
নৌ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া নিজামউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৭৯ সালের ৩০ জানুয়ারি।
তখনকার যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটা নেভাল একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১ অগাস্ট তিনি কমিশন পান।
কর্মজীবনে তিনি নৌ সদর দপ্তরের পার্সনেল সার্ভিসের পরিচালক ও নৌ প্রধানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বাংলাদেশ নেভাল অ্যাকাডেমি ও টিএএস স্কুলের প্রশিক্ষক এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পরিচালকের (অপারেশন) দায়িত্বে।
নৌ বাহিনীর তিনটি ফ্রিগেটের নেতৃত্ব দেওয়ার ‘দুর্লভ সম্মান অর্জনকারী’ নিজামউদ্দিন বাহিনীতে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘অসাধারণ সেবা পদক’ পান।
বাংলাদেশের হয়ে আইভোরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান।
২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার। পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০১৩ সালে তাকেই চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তার সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজে গতি আনার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড হয়।
তবে তার সময়েই চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।


