বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৫তম জন্মদিন আজ। রাজধানীর গুলশানে রাজ্জাকের বাসায় পারিবারিকভাবে আয়োজিত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কাটবেন রাজ্জাক। আজ শনিবার বাসায় সারা দিন শুভেচ্ছাবিনিময় ছাড়াও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানের।
এ ছাড়া নায়ক রাজের জন্মদিনে নায়ক রাজকে বিএফডিসিতে পরিচালক সমিতি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবে বিকাল ৩টায়। এরপর নায়ক রাজ চলে যাবেন রাজধানীর উত্তরায় রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সে। সেখানে রাজলক্ষ্মী বণিক সমিতি তাকে শুভেচ্ছা জানাবে। এরপর পুরো সময়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই কাটাবেন।
নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ‘যার যার অবস্থান থেকে যে যেভাবে পারছেন আমার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। আমি সবার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি কৃতজ্ঞ আমার সব ভক্ত-দর্শক ও সারা বাংলার মানুষের প্রতি। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ চ্যানেল আই এবং খুব সুন্দর একটি গান উপহার দেওয়ার জন্য আরশাদ আদনানের প্রতিও। সবাই দোয়া করবেন, যাতে ভালো থাকি, সুস্থ থাকি।’
১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছায়াছবির মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গণে অভিষেক রাজ্জাকের (আসল নাম: আব্দুর রাজ্জাক)।
এই পর্যন্ত ছয়শতাধিকের ও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কিংবদন্তি এই নায়ককে বিডি সারাদিনের পক্ষথেকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।
১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্ম। প্রকৃত নাম আবদুর রাজ্জাক। টালিগঞ্জের মোল্লাবাড়িতে আকবর হোসেন ও মিনারুন্নেসার ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন লক্ষ্মীকে।
তাদের সংসারে ৩ পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তান। মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পুত্র দের মধ্যে বাপ্পারাজ এবং সম্রাট চিত্রনায়ক। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে রাজ্জাক স্ত্রী লক্ষ্মী এবং পুত্র বাপ্পাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। স্কুলে পড়ার সময় ‘বিদ্রোহ’ নাটক আর কলেজ জীবনে ‘রতন লাল বাঙ্গালি” ছায়াছবিতে তার প্রথম অভিনয়। ১৯৫৯ সালে বোম্বের ফ্লিমালয়ে ভর্তি হন। এরপর কলকাতার ‘পংকতিলক’ এবং ‘শিলালিপি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়।
১৯৬৪ সালে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে সপরিবারে ঢাকায় এসে চলে আসেন। যোগাযোগ করেন ঢাকায় প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে।
তিনি রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন। চাকরিটি হচ্ছে পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারীর কাজ। সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’।
সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’,আখেরী টেনশন’ ও ‘ডাক বাবু’ ছবিতে তিনটি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক। বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। এসময় সুযোগ পান নায়ক হবার। জহির রায়হান রাজ্জাককে ‘বেহুলা’ ছবির নায়ক বানিয়ে দেন। ‘বেহুলা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় ‘বেহুলা’।
ছবিটি সুপারহিট হলে রাজ্জাক তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান। ঢাকার চলচ্চিত্র পায় একজন রোমান্টিক নায়ক, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের ত্রাণকর্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নায়ক রাজ রাজ্জাক ১৯৭৬ সালে ‘আশঙ্কা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
তার প্রযোজনা সংস্থার নাম এমএস প্রোডাকশন। এ পর্যন্ত ২০ টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন তিনি। এ পর্যন্ত পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬ টি চলচ্চিত্র। এখনো অভিনয় করে চলেছেন।
দাফন-কাফন নামে তাঁর জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্রের ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী কাজ নায়ক রাজের মৃত্যুর পর সম্পন্ন করা হবে।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র অবুঝ মন (শাবানা),চোর (শবনম), নাচের পুতুল (শবনম),নীল আকাশের নীচে (কবরী),বড় ভাল লোক ছিল,বেঈমান (কবরী), ময়নামতি (কবরী), মনের মতো মন (কবরী), রংবাজ (কবরী), লাইলি মজনু (ববিতা), সঙ্গীতা (কবরী), জীবন থেকে নেয়া (কবরী)।
তিনি এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ।
ছবিগুলো হল, কি যে করি (১৯৭৬),অশিক্ষিত (১৯৭৮),বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২),চন্দ্রনাথ (১৯৮৪),যোগাযোগ (১৯৮৮)।
নায়ক হিসেবেই শুধু নয় পরিচালক হিসেবেও তিনি সফল হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি ‘আয়না কাহিনী’ ছবিটি নির্মাণ করেন। নায়ক রাজ রাজ্জাক বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রে খুব কমই অভিনয় করছেন। তার দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাটও চলচ্চিত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


