বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণকারী পশু-বাবাকে কুড়িগ্রামে আটক

Girl_rapedনিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের মতো পাশবিক অত্যাচার চালানো বাবা নামের পশুকে আটক করেছে কুড়িগ্রামের পুলিশ। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কেশমত আলী (৩৭) নামের এক বাবা নিজের মেয়ের সঙ্গে বর্বরোচিত, অমানিবক এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১২ বছর বয়সী মেয়ের ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালিয়েছে ওই পাষণ্ড বাবা। মেয়ের এমন অভিযোগ থানা পুলিশও হতভম্ব। পরে মেয়ের কথামতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ওই লম্পট বাবাকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন পালের চর এলাকায় শুক্রবার দিবাগত সন্ধ্যা রাতে ওই ঘটনার পর গতকাল শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নির্যাতিত মেয়েটি অভিযোগ করে বলেন, ”সন্ধ্যা রাতে বাবা আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে বালুর চরের ফাঁকা স্থানে আমার মুখ মাফলার দিয়ে বেঁধে ওই ঘটনা ঘটায়। এ সময় এ ঘটনা যেন কাউকে না বলি এ জন্য আমাকে জবাই করার হুমকি দেয় বাবা নামের পশুডা।” মেয়ের মুখে ওই ঘটনা শুনে কিছুতেই স্থির থাকতে পারেননি মা ওমেলা বেগম। পরে থানায় উপস্থিত হয়ে ওই অভিযোগ করেন তিনি।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, পালের চরের কেশমত আলী ১৩ বছর আগে বিয়ে করেন একই উপজেলার ফুলুয়ারচর গ্রামের আখের আলীর কন্যা ওমেলা খাতুনকে। বিয়ের পর তাদের ঘরে দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম নেয়। ওই দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। দুনিয়াতে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো বাবা-মা। আর সেই বাবার হাতেই নির্যাতনের শিকার হলো নিজের সন্তান।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই কেশমত আলী আরো দুই বিয়ে করেছেন। দুই বিয়ের পর প্রথম বউকে তার দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ৬ বছর আগে। সেই থেকে প্রথম বউ ওমেলা খাতুন তার দুই মেয়েকে নিয়ে মার বাড়িতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ ওই সময়ে একটা টাকাও খরচ দিত না কেশমত আলী। ওমেলার বাবা বেঁচে না থাকার কারণে তার মা সুরা বেগম ভিক্ষা করে খাবার জোগাত। তার ওপর স্বামীর ঘর ছেড়ে ঘরে ওঠে মেয়ে নাতনি। এ অবস্থায় ওমেলা মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকম জীবন যাপন করছিল। বড় মেয়েকে স্কুলে পড়াত।

নির্যাতিত শিশুটির মা ওমেলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ”দুই দিন আগে গেদির বাপে আইসা বড় গেদিক (মেয়ে) নিয়া গেল। আসলে মানুষডার মনে ছিল শয়তানি। আমার কাছে নিয়ে আসার সময় পথে গেদির (মেয়ের) সর্বনাশটা কইরা নিয়া আইল। ওডা মানুষ না, পশুর চেয়েও খারাব। মানুষডাক গুলি কইরা মাইরা হালান উচিত।”

ঘটনা প্রসঙ্গে রৌমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পাষণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে সে। নির্যাতিত মেয়েকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ”অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ আরো পাওয়া গেছে। সে নাকি কোনো পীরের মুরিদ।”

আরও পড়ুন