সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের শেষ জানাজা শেষে সোমবার সকালে নিজ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায় দাফন হয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে আলতাফ মাহমুদকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। দাফনের সময় গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় বলে জানান গলাচিপার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী সায়েমুজ্জামান। আলতাফ মাহমুদ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।
ঘারে অস্ত্রোপচারের ৭২ ঘন্টার মধ্যে রোববার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
রোববার এই জনপ্রিয় সাংবাদিক নেতার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে সকাল সাড়ে ১১টায়। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই ডিআরইউ আসেন আলতাফ মাহমুদের বন্ধু, শুভার্থী ও পরিবারের সদস্যসহ রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। জানাজা অনুষ্ঠান রুপ নেয় শোকে। জানাজার আগে ও পরে একনজর তাকে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। এ সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কেউই।
এরপর সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার চিরচেনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে। এখানে জীবনের দীর্ঘ সময় নানা সংকটে আনন্দে সময় কাটিয়েছেন এই সাংবাদিক নেতা। এই প্রেসক্লাব থেকেই সাংবাদিকদের নানা দাবিতে বারবার সোচ্চার হয়েছেন সবার প্রিয় আলতাফ মাহমুদ।
দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে আলতাফ মাহমুদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে ও শেষবারের মতো একনজর প্রিয় নেতাকে দেখতে সকাল থেকেই ভীড় জমান সহকর্মীরা এ সময় বন্ধু স্বজন সহকর্মীর কান্না ভারী করে তোলে প্রেসক্লাবের বাতাস।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবিব নানাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদসহ সাংবাদিক নেতাকর্মীরা।
এ সময় সাংবাদিক নেতারা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, আমারা একজন অভিভাবককে হারালাম। তাঁর এই অকাল প্রয়ানে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল।


