প্যারিসের বাঙ্গালী চায়ের দোকানগুলোর আড্ডায় যে কথাটা প্রায়শই উঠে সেটা হলো অমুককে জেলে নিয়ে গেছে, অমুককে ছেড়ে দিয়েছে তবে হাতে বা পায়ে চিপস পড়িয়ে দিয়েছে। হরহামেশা এসব কথা শুনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আসলে এ চিপস (প্রচলিত অর্থে) বা ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ চিপস কেন পড়ানো হয় সেটা অনেকেরই জানা নেই।
Le placement sous surveillance électronique বা ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ (bracelet électronique) একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক চিপস যা পায়ে পড়ানো হয়। একজন কয়েদী যদি মনে করে সে জেলখানায় থাকবে না অথচ তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সে কারাদন্ড ভোগ করছে। সে সময় সে কয়েদী তার উকিলের মাধ্যমে আবেদন করে এ বিশেষ চিপস নিতে পারে। তবে সে লোকটিকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজ বাসায় অবস্থান করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে সেটা সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল আটটা অবধি হতে পারে।
অনেক কয়েদী চাকরী করে বা খন্ডকালীন চাকরী করবে অথবা পরিবার চালানোর মতো সামর্থ্য নেই এসব যুক্তি উত্থাপন করে তার নিয়োজিত আইনজীবির মাধ্যমে আদালতে আবেদন করলে বিচারক মানবিক দৃষ্টিতে বিচার করে অপরাধীকে নিজ বাসায় বা যেখানে সে থাকে সেখানে থাকার অনুমতি প্রদান করে থাকেন। তখন আর সে কয়েদী জেলে থাকেন না। তিনি তখন বাসায় থাকবেন তবে পায়ে সোনার শিকলের পরিবর্তে একটি ইলেকট্রনিক চিপস বাধা থাকবে। আসলে এটা অনেকটা আব্দুল জব্বারের কন্ঠে গীত সে বিখ্যাত গান ‘শিকল ছিড়িতে না পারে, খাচা ভাঙ্গিতে না পারে, পাখি ঝটপটাইয়া মরে’র মতো। সে বাইরে থাকবে তবে ভিতরে সব সময় জেলের অনুভুতি নিয়ে।
ফ্রান্সে এখন অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধের মাত্রা বিশেষে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। আবার অনেক ভয়ংকর অপরাধী আছে, এদের অবশ্যই জেলে রাখতে হবে। সাধারনত: ছিচকে চোর, পকেটমার বা এধরনের হাল্কা মাত্রার অপরাধীদের জেলে রাখার চেয়ে বাইরে রাখাই সঙ্গত মনে করে এদের চিপস পড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ চিপস পদ্ধতিটি এখন শুধু ফ্রান্সেই নয় ইউরোপের অনেক দেশেই ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন কয়েদীকে জেলে রাখা ও তার পিছনে সরকারের যে রাজস্ব ব্যয় হয় চিপস পড়িয়ে কয়েদীকে ছেড়ে দিলে তার এক দশমাংশ ব্যয় হয় বলে জানা যায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতিদিন একজন কয়েদীর পিছনে কারা কর্তৃপক্ষের খরচ হয় ৯৪ ইউরো। অপরদিকে শুধু চিপস পড়িয়ে ছেড়ে দিলে তার পিছনে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ১০ ইউরো। ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর অপরাধীদের জেলে রাখার পরিবর্তে চিপস পড়িয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আইন পাশ হয় ফ্রান্সে। অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী হবার কারনে গত তিনবছরে শুধু ফ্রান্সেই এ চিপস এর ব্যবহার গত তিন বছরে ১২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা যায়।
(সূত্র: ইউরো বার্তা২৪)



