বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজির হতে সমন

khaleda_zia_188653মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) রাশেদ তালুকদারের আদালত এ সমন জারি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাড. সাহারা খাতুন জানান, আগামী ৩ মার্চে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে খালেদা জিয়াকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী মামলাটি দায়ের করেন। পরে বেলা ১১টায় মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহ মামলার অনুমতি চেয়ে গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। তিনি সমকালকে বলেন, এতদিন মামলার অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলাম। বৃহস্পতিবার সরকারের অনুমোদন পেয়েছি।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩(ক), ১২৪(ক), ৫০৫ ধারার খালেদা জিয়ার ‘অপরাধ’ আমলে নেওয়ার জন্য মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করা হয় বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের আইনে কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার অনুমতির আবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘একজন আইনজীবী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছিলেন। পরে একটা গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে।’

গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ একাধিক সংগঠন ও বিশিষ্টজন ওই বক্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে বলেন। এর এক দিন পরেই খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্র্রোহের শামিল’ বলে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠানো হয়।

অ্যাডভোকেট মেহেদী রেজিস্ট্রি ডাকযোগে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানায় পৃথক ওই নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাইতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন