বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সিএনজি থেকে নারীকে তুলে ‘পতিতা’ বলে টহল পুলিশের চাঁদাবাজি: বরখাস্ত ৩

Police-Check-Postপুলিশ সপ্তাহের শুরুর দিনেই অপরাধে জড়িয়ে নেতিবাচক শিরোনামে খবর হল পুলিশ। রাজধানীর উত্তরায় রাতে বান্ধবীসহ এক ব্যবসায়ী মতান্তরে সরকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ ওই ভূক্তভোগীকে ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও উত্তরা থানারই অন্য সূত্রগুলো বলছে, ওই ব্যক্তি আসলে সরকারের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নিজের আত্ম সম্মানের কথা ভেবেই তিনি নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযোগ করেছেন।

গত রোববার তাদের বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হল: উত্তরা পশ্চিম থানায় এস আই মো. রউফ বাহাদুর, এএসআই ফারুক হোসেন এবং কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা। এ ঘটনায় উত্তরা জোনের এসি সোহেল রানাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি ঘটনা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মেজবা উদ্দিন জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি তার বান্ধবীকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় করে উত্তরা ৯নং সেক্টরের (ব্যাকলি রেস্টুরেন্ট) একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে টহল পুলিশ ওই সিএনজি অটোরিকশাটি তল্লাশি করে। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের প্রমাণ না দেখানোর কারণে তাদের সিএনজি থেকে নামিয়ে পুলিশের টহল গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর এসআই আব্দুর রউফ বাহাদুর তাদের অভিভাবকদের কাছে জানিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি অভিভাবককে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। এ অবস্থায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার বান্ধবীর বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ এনে থানায় মামলা করার হুমকি দেন। ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি থেকে মুক্তি চাইলে এসআই রউফ তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাদের পুলিশের গাড়িতে বসিয়ে রেখে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভোরের দিকে ওই ব্যবসায়ী তার এক বন্ধুর কাছে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর টহল পুলিশের দলটির সঙ্গে দর কষাকষি করে ৭৫ হাজার টাকায় রফা হয়। এর ওই ব্যবসায়ী তার বন্ধুর মারফত ৭৫ হাজার টাকা এনে পুলিশের কাছে দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দিন অর্থাৎ (রোববার) সকালে ওই জোনের উপ কমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরার কাছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ করেন। ডিসি তাৎক্ষণিক তার দফতরের একটি স্পেশাল ফোর্সকে ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত করেন। পরে ওই টিম ঘটনার সত্যতা পেয়ে ডিসিকে অবহিত করেন। এরপরই ডিসি ডিএমপি সদর দফতরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেন। পরে তাদের ডিউটি থেকে তুলে নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।

এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ঘটনার স্বীকার মেজবাহউদ্দিন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে বিষয়টি উত্তরা জোনের কোনো পুলিশ কর্মকর্তাই স্বীকার করেনি। তবে অসমর্থিত সূত্রগুলো বলেছে, তিনি যে মেজিস্ট্রেট এটা শতভাগ নিশ্চিত।

এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সত্যতা পেয়েই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

অভিযুক্ত এসআই রউফ বাহাদুর জানান, ঘটনাটি সত্য নয়। এটি সাজানো। আমি ওই ব্যবসায়ীর কাছে কোনো টাকা চাইনি।

o মধ্যরাতে পুলিশের তল্লাশির বাণিজ্য: ‘ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়’

o সাবধান! ঢাকার রাস্তায় হয়ে যেতে পারেন মাদক ব্যবসায়ী

o সিটি করপোরেশনের ইন্সপেক্টরকে পেটাল টহল পুলিশ

o সচিবের ছেলের পকেটে ইয়াবা দিয়ে আটক করে বিপাকে এক পুলিশ

o মোটরসাইকেল ‘ছিনতাইকারী’ পুলিশ কারাগারে

o পুলিশের অপরাধ: পাঁচ বছরে ৬৭ হাজার ৮২০ জনকে শাস্তি

পুলিশের আরো অপরাধের খবর জানতে নিচে ক্লিক করুন:

আরও পড়ুন